ভোটের পূর্বাপর নিরাপত্তা চান সনাতনীরা: রানা দাশগুপ্ত

নিউজ ব্যাংক বাংলা, চট্টগ্রাম অফিস:
‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদে’র সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, ‘ সনাতনী সম্প্রদায় চসিক ভোটের পূর্বাপর নিরাপত্তা চায় । ‘
সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, ‘কাউন্সিলর পদে কয়েকটি ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীনদের বিরোধপুর্ণ পরিস্থিতিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের ভোটই হবে এবার ‘মূল নিয়ামক। সনাতনী ভোট নিশ্চিত করা গেলে ভোটের চিত্র এক রকম, আর তা না হলে হবে অন্য রকম।’

সনাতনী ভোটার উপস্থিতির উপর ‘অনেক কিছুই নির্ভর করে’ বলে জানান এই নেতা।

জাতীয় ও আঞ্চলিক নানা নির্বাচনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন এই সনাতনী নেতা। পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ চট্টগ্রাম শাখার সাবেক এই আহবায়ক আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরও।
একটি বিশেষ সময়ে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে অনেকটা পাল্টাপাল্টি সম্পর্ক ছিল এই সনাতনী নেতার। কিন্তু কালের পরিক্রমায় মহিউদ্দিন পুত্র নওফেল এখন তাঁর স্নেহভাজন । বিশ্বাস্ত। শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার নওফেলও এই সনাতনী নেতাকে শ্রদ্ধা করেন। নির্ভর করেন।

চসিক ভোট নিয়ে সনাতনী সম্প্রদায়ের সারাদেশের এই প্রতিনিধি মুখোমুখি হন বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ জাতীয় সংগঠন ‘বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ।
পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য এই সাংবাদিক-পেশাজীবী নেতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেন তাঁর পূর্বসূরী নেতা অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তকে, যা হুবহু তুলে ধরা হলো :

লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে ভীতি কাটানো দরকার। কাউন্সিলর পদে কথিত ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’দের তৎপরতার মুখে ওয়ার্ড ও কেন্দ্রভিত্তিক বিরোধের প্রকাশে ভীতি বেড়েছে।

আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করে রক্ষা করতে পারলে ভোটের চিত্রটি কোন পক্ষে যাবে এক ধরনের আর না পারলে তা হবে অন্য ।

রানা দাশগুপ্ত জানান, চট্টগ্রাম শহরের প্রধান তিনটি সংসদীয় এলাকার মধ্যে যথাক্রমে কোতোয়ালি-বাকলিয়ায় ৪৮%, ডবলমুরিং হালিশহর ১৮%, বন্দর-পতেঙ্গায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ সনাতনী ভোট রয়েছে।

তাঁর মতে, ওই দুই সংসদীয় আসনের শেষের দুটিতে আওয়ামী লীগ কিছু কম ভোট পেলেও কোতোয়ালি আসনটির ভোট হবে সহায়ক । ‘

রানা দাশগুপ্ত এও জানান, কোন কোন ওয়ার্ডে সনাতনী সম্প্রদায়ের একাধিক প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকাসহ নানা কারনে কোথাও কোথাও সনাতনীরা চরম অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছেন। সাংঘাতিক ভয় কাজ করছে।’ ‘আওয়ামী লীগকে ঘিরেই এই শঙ্কার কথা নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়েছেন’ বলেও জানান এই সনাতনী সম্প্রদায়ের নেতা।

জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনের তুলনামূলক পার্থক্য চিত্র প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে সনাতনী সম্প্রদায়ের এই নেতা উদাহরণ টেনে বলেন, পাথরঘাটা ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর, আন্দরকিল্লাহ-দেওয়ান বাজার-চকবাজারে সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও কাট্টলীতে সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীতা নিয়ে সনাতনীরা উদ্বিগ্ন।

এছাড়াও বিভিন্ন ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও কথিত বিদ্রোহী প্রার্থীর পাল্টাপাল্টিতে ভীতি উদ্বেগ বেড়েছে ।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, পাথরঘাটা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পুলক খাস্তগীরের বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অনুপ বিশ্বাস রয়েছেন। সেই ওয়ার্ডে পুরনো তিনবারের কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন বালি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন। বালি সনাতনী সম্প্রদায়ের কাছে নির্ভরতার । পরীক্ষিত। এজন্য একটি অংশ হলেও তার পক্ষে গেছে ।

পাথরঘাটা ওয়ার্ড প্রশ্নে রানা দাশগুপ্ত আরো বলেন, সেই ওয়ার্ডে ইসমাইল বালি সনাতনীদের নিরাপত্তায় সবসময় এগিয়ে আসেন ।
সেই ওয়ার্ডের উদ্বিগ্ন সনাতনীরা বলছেন,’পুলকতো হিন্দু। সেকি নিরাপত্তা দিতে পারবে? ‘ তাছাড়া আওয়ামীলীগ সেখানে দুই গ্রুপে বিভক্ত। – জানান এডভোকেট রানা দাশগুপ্ত ।

এদিকে আন্দরকিল্লা তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি । মনোনয়ন পেয়েছেন রুমকি সেনগুপ্ত । কিন্তু অতীতে যেহেতু দলীয় মার্কায় ভোট হয়নি সেহেতু স্বতন্ত্র হয়েই দফায় দফায় কাউন্সিলর হন আঞ্জুমান আরা আন্জু। কিন্তু এসবে তার দলীয় মনোনয়ন না থাকা সত্বে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ে বিজয়ী হয়েছেন । এবারে দলীয় মনোনয়ন আশা করেছিলেন। কিন্তু তা না হয়নি।

অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া রুমকির পক্ষে দলের মাঠ পর্যায়ে অনেকেই না থাকায় পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তা নিয়েই উদ্বিগ্ন ।

এদিকে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে চট্টগ্রাম ১০ দক্ষিণ কাট্টলী-উত্তর হালিশহর-রামপুর ওয়ার্ডে ‘বই’ প্রতীক নিয়ে রাধারানী দেবী মাঠ পর্যায়ে থাকলেও আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন হুররে আরা বিউটি । সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম বিএনপি মনোনীত প্রার্থী । সেই আসনে রাধারানী দেবীর পোষ্টারে আগুন দেয়ার ঘটনাও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় । সব মিলে উদ্বেগ আতঙ্কের ভর করছে সনাতনী সম্প্রদায়ের মনে।’

এবার চসিকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সনাতনীরা আগের চেয়ে বেশি ভোট দিতে পারবেন বলেও আশাবাদ তাঁর ।

এক প্রশ্নের জবাবে রানা দাশগুপ্ত বললেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতিতে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাসির উদ্দিন ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর পুত্র শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর সমর্থকরা বিভাজিত
।’
‘এই বিভাজনের মধ্যেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কেউ কেউ নেতা বদল করেছেন’- এ নিয়ে জানতে চাইলে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘পুকুরতো দুইটাই। কেউ একবার এই পুকুরে যায়, আবার ওই পুকুরে ।’ #

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *