জুমার নামাজে গুলিতে খুনের ছক বসুন্ধরা এমডিকে : কিলিংমিশন সদস্যের স্বীকারোক্তি

 

 

‘হুইপের সামনেই  গাড়িতে বসিয়ে হত্যার নির্দেশনা দেয়া হয়’

শারুন চৌধুরী  খুনের জন্য অস্ত্র দেয় বলে স্বীকার করে সাদ । ‌’পরিকল্পনা অনুযায়ী মসজিদে পেছনের কাতার থেকে সরাসরি খুন করে এক মুহূর্তও দেরি না করে সটকে পড়ার জন্যও  বলেছিলেন  ।’…….

নিউজ ব্যাংক বাংলা ডট কম, ঢাকা :

দুধে বিষ মিশিয়ে নতুবা জুমার নামাজের দিন পেছনের কাতার থেকে গুলি করেই বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে হত্যাচেষ্টা করা হয় ।

হত্যা প্রচেষ্টার বিস্তারিত ফাঁস করেছে পুলিশের হাতে আটক কিলিং মিশন সদস্য সাইফুল ইসলাম সাদ ।‌ পুলিশি তদন্তে বের হয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। ‌

জিজ্ঞাসাবাদে সাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে,  কয়েক বার বসুন্ধরা এমডিকে হত্যার চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে বসুন্ধরার ‘সাউতুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানা’ শিক্ষার্থীর বেশ ধরে ওই হত্যাচেষ্টাকারী । ওই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন বসুন্ধরা এমডি’র  বাসায় কোরআন খতমের জন্য যান। ছদ্মবেশে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী হয়েও বসুন্ধরা এমডিকে খুনের চেষ্টা করা হয়।‌

মাদ্রাসাটির মুফতি মেজবাহ উদ্দিন জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার ( সাদ) কথাবার্তা-গতিবিধি, ফোনালাপ সন্দেহ হয়। মোবাইল ফোনে আলাপকালে সাদ এর কন্ঠে হইপ শামসুল ও তার পুত্র শারুন চৌধুরীর নাম শুনতে পান মুফতি মেজবাহ।

হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় সাদ। পাশের ছবিতে শারুন চৌধুরী

 

 

তিনিই  গতিবিধি সন্দেহের বিষয়টি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা বাহিনীকে অবহিত করেন । তারা এসে সন্দিগ্ধকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ।

বসুন্ধরা গ্রুপের হেড অব পাবলিক রিলেশন্স মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান এ বিষয়ে ভাটারা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ।‌ তিনি জানান, ‘বসুন্ধরা এমডির বাসায় দিনমজুরের কাজ নিয়েছিল সাদ । খামার থেকে সে দুধ নিয়ে যেত বাড়ির গেট পর্যন্ত ।‌ হত্যা প্রচেষ্টাকারীরা  সেই দুধের মধ্যে বিষ মিশিয়ে দিয়ে পরিবারের সবাইকে হত্যার পরিকল্পনা করে । ‘

হত্যা প্রচেষ্টাকারিরা কীভাবে কী পরিকল্পনা করেছিল সে প্রসঙ্গে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আটক ওই কিলিং মিশন সদস্য জানায়, একাধিক দফায় হত্যার চেষ্টা করে তাতেও সফল না হলে মসজিদে জুমার নামাজের সময় গুলি করে হত্যার পরিকল্পনা আঁটা হয় ।

বসুন্ধরার নিরাপত্তা রক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও স্যাটেলাইট টেলিভিশন NEWS24 এর  কাছে আটক সাইফুল ইসলাম সাদ জানায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া সংসদীয় আসনের এমপি ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবং তার পুত্র শারুন চৌধুরী তাকে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে প্রলুব্ধ করে। মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতনের চাকরি না করে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নিরাপদে সটকে পরে উন্নত জীবন গঠনের কথা বলেন হুইপ ও তারপুত্র’ -এমনটিই জানান ওই আটক হত্যা প্রচেষ্টাকারী।

হুইপের সংসদীয় এলাকা পটিয়ায় এই যুবকের বাড়ি।  সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আটকের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগেই সে স্বীকার করে , প্রায় ৩ মাস ধরে ছদ্মবেশে বিভিন্ন পরিচয়ে ৪ বারেরও বেশি বসুন্ধরা এমডির বাড়িতে ঢোকে সাইফুল ইসলাম সাদ।  সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী জুমার নামাজ চলাকালীন বসুন্ধরা এমডিকে গুলি করে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়।

সাইফুল ইসলাম সাদ এও স্বীকার করে, মাদ্রাসার ছেলেদের সাথে কোরআন খতমের জন্য বসুন্ধরা এমডি’র বাসায় প্রবেশ করে ও পরবর্তীতে তাদের সাথে ভিড়েই জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়ে হত্যা করার পরিকল্পনার করা হয়। এমনকি  শারুন চৌধুরী তার হাতে খুনের জন্য একটি অস্ত্র তুলে দেয় বলে স্বীকার করে সাদ । ‌’পরিকল্পনা অনুযায়ী মসজিদে পেছনের কাতার থেকে সরাসরি খুন করে এক মুহূর্তও দেরি না করে সটকে পড়ার জন্যও  বলেছিলেন  ।’

হুইপের সামনেই একটি গাড়িতে বসিয়ে এই হত্যার নির্দেশনা দেয়া হয়’ বলেও জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে আটক এই হত্যা প্রচেষ্টাকারী।

এদিকে আটক শামসুল ইসলাম সাদের কন্ঠে উঠে আসা অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি ও তারপুত্র শারুন চৌধুরীকে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি। যে কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই প্রতিবেদনে তাদের বক্তব্য সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি তারা পরবর্তীতে এ ঘটনা নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেবেন ।‌

রিপোর্ট : ইয়াসিন জয়নাল  শামস

06.11.2021  09.20


newsbankbangla.com
নিউজ ব্যাংক বাংলা ডট কম
উপদেষ্টা সম্পাদক :
রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *