বিএনপি’র মনোনয়নে অতীত বিশ্লেষণ : খসরুর আসন বদল, আসলাম চৌধুরী ও নোমান পুত্রের স্বীকৃতি

Must Read

এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র চট্টগ্রাম ১০ ও চট্টগ্রাম ১১ আসনের  প্রার্থী বদলের ঘটনা দলের পুরনো অনেককেই ৩৫ বছর আগের ঘটনাকেই মনে করিয়ে দেয়। সেই ৯১ নির্বাচন পরবর্তী উপ-নির্বাচনে আমির খসরুর পক্ষে আব্দুল্লাহ আল নোমানের যেই অবস্থান তা’ই মনে করিয়ে দিল অনেককেই..

‘আমির খসরু  চৌধুরী আগেই যেহেতু ওই আসন (বন্দর -পতেঙ্গা) আসনটি থেকে নির্বাচন করেছেন, সেহেতু এবারও সেটি বেশ ইতিবাচক হবে। তাছাড়া তিনি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী। বন্দর-পতেঙ্গা আসনটি তাঁর জন্য বেশ নির্বাচনী তাৎপর্যপূর্ণ। ‘….

জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিএনপির আসন বদলকে নিয়ে লিখেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর উপ-নির্বাচনে বিএনপির সেই সময়ের নবাগত নেতা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ এর পূর্ববর্তী সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মনোনয়নের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার কাছে ‘নাছোড় আবদার’ করেছিলেন সেই সময়ে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান ‌। সে সময় মন্ত্রী পরিষদ গঠিত হওয়ার প্রাক্কালে নিজে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তির চেয়েও আসনটির হিস্যা আদায়ে বেশিতৎপর ছিলেন এই বিএনপি নেতা। আজ তিনি নেই। কিন্তু বিএনপি হাই কমান্ড তাঁর পুত্রকে স্বীকৃতি দিলেন চমক লাগানো কায়দায়।

বর্তমানে চট্টগ্রামে বিএনপির ‘অভিভাবক নেতা’ আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে পূর্বঘোষিত আসন থেকে সরিয়ে নোমানপুত্র সাঈদ আল নোমান তূর্যকে মনোনয়ন দিয়েছে দলটি তাঁর প্রত্যাশিত আসনেই। খসরুকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে তাঁরই পূর্বেকার সংসদীয় আসনে।

এভাবে সর্বশেষ আরো চমক এসেছে চট্টগ্রাম বিএনপির মনোনয়নে। ভাগ্যবদল  হয়েছে দলটির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরীরও।

চট্টগ্রাম জেলার ১৬ সংসদীয় আসনে ৭৫ শতাংশ মনোনয়ন প্রত্যাশীর জুটলো না দলের মনোনয়ন। কোনো কোনো আসনে ৮ জন পর্যন্ত হয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী। মনোনয়ন ফরম নেন তাঁরা। শেষ মুহূর্তে দুটি আসনে মনোনয়ন বদল চমকে দিয়েছে তৃণমূলকে।

এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভাগ্য সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান পুত্র সাইদ আল নোমান এবং আসলাম চৌধুরীর ভাগ্য সুপ্রসন্নই হলো না, তৃণমূলে দেখা দিয়েছে নতুন চাঙ্গা ভাব। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার হয়। আগামীকাল  ২৯ ডিসেম্বর প্রার্থী হওয়ার শেষ সময় ।

চট্টগ্রামে ১৬টি সংসদীয় আসন রয়েছে। তার মধ্যে ১৫টি উপজেলা ও ৩৪টি থানা এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে নগরে ৪টি, উত্তরে ৭টি এবং দক্ষিণে ৫টি সংসদীয়  আসন।

 তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হওয়ার পর  গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ১৫০টি মনোনয়ন ফরম বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে বিএনপি’র নীতি নির্ধারণী মহল থেকে শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তে যে আসন পরিবর্তন হলো, তাতে   সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে প্রাথমিক মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রদত্ত চট্টগ্রাম–১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, হালিশহর ও খুলশী) আসনের পরিবর্তে চূড়ান্ত মনোনয়নে চট্টগ্রাম–১১ আসনে (বন্দর-পতেঙ্গা) প্রার্থী করা হয়েছে । তাঁর জন্য প্রাথমিক মনোনয়নে পূর্ব ঘোষিত আসনটিতে অর্থাৎ,চট্টগ্রাম–১০ আসনেরই প্রার্থী করা হয়েছে বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান তূর্যকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

 সাঈদ নোমান তূর্য মূলত শিক্ষা খাতে কাজ করে আসছিলেন দীর্ঘদিন। তাঁর পিতার প্রয়ানের পর ঘনিষ্ঠভাবে বিএনপিতে যুক্ত হন। এর আগে তিনি তাঁর পিতার হাত ধরে সমাজসেবার নানা অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন। তরুণ নেতা  শিক্ষাবিদ সাঈদ নোমান তূর্য সম্প্রতি ‌জাতীয়তাবাদী পাটশ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হন।

বাকি অংশ নিচে সংযুক্ত প্রতিবেদনের পর। চোখ রাখুন –

মায়ের দোয়া নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন সাঈদ আল নোমান

তিনি যে আসনে মনোনয়ন পেলেন, সে আসনে ইতিপূর্বে তাঁর পিতাও নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ আল  নোমান ১৯৯১ সালে শহরের সদর আসন খ্যাত কোতোয়াল আসুন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে  মন্ত্রী হন। সেই আসনের তৃণমূল থেকেও সাঈদ নোমান তূর্যের প্রার্থী হবার জোরালো দাবি ছিল।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে প্রাথমিকভাবে  প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। ফাঁকা ছিল চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ)।

এদিকে শনিবার  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে যে চট্টগ্রাম-১১ আসনে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয় , সেই আসনে তাঁর পুত্র বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু চৌধুরীও মনোনয়ন ফরম নেন। ইসরাফিল খসরু গেল ক’বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ আসছিলেন। পার্শ্ববর্তী আসন থেকে সরিয়ে এই আসনে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক তথ্যাবিজ্ঞ অনেকের মধ্যে আলোচনা থাকলেও বিএনপির শুভার্থীরা কেউ কেউ মনে করছেন, আমির খসরু  চৌধুরী আগেই যেহেতু ওই আসন (বন্দর -পতেঙ্গা) আসনটি থেকে নির্বাচন করেছেন, সেহেতু এবারও সেটি বেশ ইতিবাচক হবে। তাছাড়া তিনি সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী। বন্দর- পতেঙ্গা আসনটি তাঁর জন্য বেশ নির্বাচনী তাৎপর্যপূর্ণ। ‘

বন্দর -পতেঙ্গা আসন থেকে পূর্ব প্রস্তুতি সত্ত্বেও ইসরাফিল খসরুর মনোনয়ন না পাওয়া প্রসঙ্গে বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র  জানায়, এক  পরিবার থেকে একজন মনোনয়নের ফর্মুলা মেনে চলায় প্রত্যাশা পূরণ হলো না খসরুপুত্রের ।’

এদিকে আসনটিতে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। দলের পরিবর্তিত সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত তারও ভাগ্য বঞ্চনা ফুটলো ।

বিএনপি’র নির্ভরযোগ্য  আরেকটি সূত্র মতে, দীর্ঘকালীন ত্যাগী নেতা প্রয়াত আব্দুল্লাহ আল নোমানকে স্বীকৃতি দিতে গিয়েই আমির খসরুর আসন বদল ঘটেছে। তাই আর খসরু পুত্র ইসরাফিল কিংবা মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া গেল না ।’

এবারের নির্বাচনে বিএনপি’র চট্টগ্রাম ১০ ও চট্টগ্রাম ১১ আসনের  প্রার্থী বদলের ঘটনা দলের পুরনো অনেককেই ৩৫ বছর আগের ঘটনাকেই মনে করিয়ে দেয়। সেই ৯১ নির্বাচন পরবর্তী উপ-নির্বাচনে আমির খসরুর পক্ষে আব্দুল্লাহ আল নোমানের যেই অবস্থান তা’ই মনে করিয়ে দিল অনেককেই।

প্রার্থিতা বদলের ঘটনায়  খসরু নিজ থেকেই এই ছাড় দিলেন, নাকি হাই কমান্ডের  সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়ে উঠল, এই আলোচনাকেই মূল না রেখে নির্বাচনী জয়লাভই এখন মুখ্য হওয়া উচিত বলে মনে করছেন দলের স্বার্থসংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে প্রার্থী পরিবর্তিত হওয়া অন্য আসনটি চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)। এ আসনে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মো. সালাউদ্দিনকে। শনিবার আসনটিতে সালাউদ্দিনের বদলে আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেয়া হয।

নির্বাচনী এলাকার মানুষের অভূতপূর্ব ভালোবাসায় সিক্ত আসলাম চৌধুরী

প্রাথমিক মনোনয়নে বঞ্চিত হওয়ায় আসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা আসনটির বিভিন্ন স্থানে স্বকীয় বলয় গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা আসলাম চৌধুরী পূর্ববর্তী সরকারের সময় বছরের পর বছর কারা ভোগ করেন।

দলের একাধিক সূত্র জানায, মোট ৫৩ জন বিএনপি নেতা  মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তাঁরা দলের নামে এবং স্বতন্ত্র হিসেবে এসব ফরম সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির ১৩ জন প্রার্থীও  মনোনয়ন ফরম নেন।

সেই সুত্রে দলীয় মনোনয়নের বাইরে  রয়েছেন প্রায় ৭৫ শতাংশ । কোনো কোনো আসনে সর্বোচ্চ ৮ জন পর্যন্ত বিএনপির নেতা মনোনয়ন ফরম নেন। প্রাথমিক মনোনযন প্রার্থী তালিকা ঘোষণর পরপর বিবদমান চট্টগ্রামের ৭টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন, মশালমিছিল ও সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ বিএনপির কর্মী সমর্থকেরা ।

তথ্য অভিজ্ঞরা মনে করছেন,   মতবিরোধ বিভক্তি বা বিভেদের উত্তাপ সামলে নিয়ে   শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করাটাই এখন বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ।

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img
Latest News

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষায় অধ্যাদেশ আসছে

জুলাই ঘোষণাপত্রে আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত হয় ‎নিউজ ব্যাংক বাংলা,  ঢাকা : জুলাই ঘোষণাপত্র ও  বৈষম্যবিরোধী...
- Advertisement -spot_img

More Articles Like This

- Advertisement -spot_img