
আমরা দৃঢ় চিত্তে বিশ্বাস করি, গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় কোন আইনজীবী ও তার পরিবার জড়িত নয়।
নিউজ ব্যাংক বাংলা, চট্টগ্রাম : সম্প্রতি ১১ জন বিজ্ঞ আইনজীবীসহ ১৫ জন গ্রেফতারের ঘটনায় ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস ও ফেইক আইডির মাধ্যমে সাংগঠনিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ভিন্ন নামে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সম্বলিত অসত্য স্ট্যাটাস সংগঠনের গতিশীলতাকে ব্যাহত করছে’ বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির প্রাক্তন পাঁচ সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি)।
বিবৃতিতে আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বলেন, “এই সংকটময় মুহুর্তে কোন ভুল বুঝাবুঝিকে আমরা প্রশ্রয় দিতে পারিনা। কারণ এখনো আমাদের ৬ জন বিজ্ঞ আইনজীবীসহ পরিবারের সদস্যরা জেল হাজতে আছেন। “
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানাধীন এলাকায় গত ১৫ আগস্ট এডভোকেট উম্মে হাবিবার বাড়িতে দোয়া মাহফিল আয়োজনকে ঘিরে পুলিশি অভিযান হয়। সেখান থেকে ১১ জন আইনজীবী ও তাদের আত্মীয় সহ ১৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় চট্টগ্রামে আইনজীবী সহ পেশাজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ন্যাক্কার জনক গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেন। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠে।

১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে আদালতের কাছে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত গ্রেফতারকৃত পাঁচ নারী আইনজীবীকে জামিন দেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। গ্রেফতারকৃত অন্য আইনজীবী সহ ১০ জন এখনো কারা অন্তরিন আছেন।
ইফতারের পরপরেই সামাজিক মাধ্যমে এর আড়ালে থাকা চক্র বিষয়ে নানা কথা ছড়িয়ে পড়ে। কারো মতে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে আইনজীবীদের উপস্থিতির গোপন তথ্য জানিয়ে দিয়েন এ ঘটনা ঘটানো হয়। এ নিয়ে কর্মরত কর্মরত আইনজীবীদের মধ্যেও নানা অসন্তোষ রয়েছে।


১৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে জামিন পাওয়া পাঁচজন নারী আইনজীবী
নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবং আইনজীবী সমিতিসহ সর্বমহলের সহযোগিতায় যেভাবে পাঁচজন বিজ্ঞ আইনজীবী বোনদেরকে মুক্ত করেছি, একইভাবে অতি শীঘ্রই বাকিদেরও মুক্ত করবো-এই আমাদের প্রত্যাশা। “
বিবৃতির বাকি অংশটুকু পড়ুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বহুল আলোচিত নীচের লিংক যুক্ত লেখাটির পর..
আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বলেন, সংশ্লিষ্ট সকলের জ্ঞাতার্থে আমরা আপনাদের জানাতে চাই, আইনজীবীবৃন্দের গ্রেফতারের এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত ও ব্যথিত। আমরা দৃঢ় চিত্তে বিশ্বাস করি, গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় কোন আইনজীবী ও তার পরিবার জড়িত নয়। “

বিবৃতিদাতা চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক পাঁচ সাধারণ সম্পাদক হলেন : যথাক্রমে এডভোকেট আইয়ুব খান,এডভোকেট আবদুর রশীদ, এডভোকেট অশোক কুমার দাশ, এডভোকেট এএইচএম জিয়াউদ্দীন, এডভোকেট বজলুর রশীদ মিন্টু। এই পাঁচ সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বিবৃতিদাতা হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক ডিএজি এডভোকেট আবুল হাশেমও।

১৫ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে জামিন পাওয়া পাঁচজন নারী আইনজীবী হলেন অ্যাডভোকেট উম্মে হাবিবা, অ্যাডভোকেট কামেলা খানম, অ্যাডভোকেট সুজলা অন্তরা, অ্যাডভোকেট শারমিনা ইয়াসমিন নিশু ও আয়েশা হেভেন।
কারাগারে বন্দী থাকা আইনজীবীরা হলেন, অ্যাডভোকেট যীশু রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট পার্থ নন্দী, অ্যাডভোকেট সুলতান জিদান, অ্যাডভোকেট শুভ আইচ, অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান আবির এবং শিক্ষানবিশ আইনজীবী সঞ্জয় মহাজন।
21.08.2026


