বিএনপি থেকে ৭ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ১ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে ১ জন, বিরোধী দল থেকে ৫ জন। মোট ১৭ জন।
- নিউজ ব্যাংক বাংলা
বিরোধী দল নাম না দেওয়ায় ১২ সদস্য বিশিষ্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। চিফ হুইপ মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম সোমবার (১৩ জুলাই) অধিবেশনে ‘সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি’র নাম সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়। ১৭ সদস্যের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার রাতে সংসদে এ কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এ সময় বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অনুরোধ জানান। তবে তাঁরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান…..

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।সনদের ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান-সম্পর্কিত। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটি নিজেদের ভিন্নমতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোট সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে জুলাই সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে। তারা এটিকে সাধারণ সংবিধান সংশোধন নয়, ‘সংবিধান সংস্কার’ হিসেবে দেখছে।
চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তার প্রস্তাবিত কাঠামো নিম্নরূপ–
বিএনপি থেকে ৭ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ১ জন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে ১ জন, বিরোধী দল থেকে ৫ জন। মোট ১৭ জন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ, ২৯৪ কক্সবাজার-১ — সভাপতি
মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, ১১০ বরগুনা-২ — সদস্য
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, ৮১ ঝিনাইদহ-১ — সদস্য
জয়নুল আবেদীন, ১২১ বরিশাল-৩ — সদস্য
মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ২৪৮ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ — সদস্য
আন্দালিব রহমান, ১১৫ ভোলা-১ — সদস্য
মোহাম্মদ নুরুল হক, ১১৩ পটুয়াখালী-৩ — সদস্য
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ২৮২ চট্টগ্রাম-৫ — সদস্য
ফারজানা শারমিন, ৫৮ নাটোর-১ — সদস্য
শাকিলা ফারজানা, ৩০৮ মহিলা আসন-১ — সদস্য
মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল, ১৪৫ শেরপুর-৩ — সদস্য
মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, ১০৯ বরগুনা-১ — সদস্য
কমিটির নাম প্রস্তাবের আগে চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং জোটের সদস্যদের সমন্বয়ে, এমনকি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত একটি কমিটি গঠনে উদ্যোগ নিই।
সেই লক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদের কাছ থেকে এই অধিবেশনে নাম পাওয়ার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করি।
ইতোমধ্যে কয়েক দফা এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, কিন্তু তারা এখনো কোনো নাম আমার কাছে দেননি।
চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, ‘১৭ জনের মধ্যে বিরোধী দলের জন্য ৫টি পদ শূন্য রেখে আজ ১২ সদস্যের কমিটি গঠনের প্রস্তাব করছি। বিরোধী দলের কাছ থেকে নাম পাওয়া গেলে তাদের ৫ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে আমি মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ প্রস্তাব করছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ২৬৬ বিধি অনুসারে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের নিমিত্তে সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক সংসদে রিপোর্ট পেশ করার জন্য নিম্নলিখিত সংসদ সদস্যগণের সমন্বয়ে ১২ সদস্য বিশিষ্ট ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হোক।‘
চিফ হুইপ এই প্রস্তাবটি করার পর বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, এ বিষয়টা সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই চলে আসছে। প্রথম অধিবেশনেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সে দিনই বিরোধী দল অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
চিফ হুইপ একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, তাঁরা কখনোই বলেননি এ কমিটিতে নাম দেবেন। তাঁরা জাতির কাছে ওয়াদাবদ্ধ। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তাঁরা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘ওইটাকে যদি বাইপাস করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয় তাহলে আমরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই আছি।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন,‘ জনগণের অভিপ্রায় ও মতামতকে কোনোভাবেই অগ্রাহ্য বা অপমান করা উচিত নয়। এ জন্য তাদের প্রতি সম্মান রেখেই আমরা শুধু এই কমিটিতে অংশগ্রহণ করবো না এটাই নয়; বরঞ্চ এই পর্বটা আমরা যেহেতু জনগণের রায়কে সম্মান করা হচ্ছে না তার প্রতিবাদে ওয়াক আউট করছি।’
এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তাঁদের অনুপস্থিতিতে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি সংসদে পাস হয়।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের পর ফ্লোর নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এ সময় বিরোধী দলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অনুরোধ জানান। তবে তাঁরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী, সংবাদপত্রের সম্পাদক, বিভিন্ন অংশীজন এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। সংসদেও এ বিষয়ে আলোচনা হবে। পরে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে সংবিধানের ১৮তম সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন করা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের অবস্থান তাদের রাজনৈতিক বিবেচনা হতে পারে, তবে বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়েছে, জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ হয়েছে এবং সেই ভাষণের ওপর সরকার ও বিরোধী দল আলোচনা করেছে। তাই বর্তমান সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
বিরোধী দলের দুটি শপথের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অবৈধ, এটি কালারেবল লেজিসলেশন। তিনি বলেন, আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধানে যদি সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত হয়, তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আর সেই আলোচনার উপযুক্ত স্থান সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি।‘
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে বিএনপির দেওয়া ভিন্নমত গুরুত্ব পায়নি। বিএনপি ও তাদের জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় পরিষদ গঠিত হয়নি।জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার নির্ধারিত সময় গত ১৫ মার্চ শেষ হয়েছে।
বিরোধী দলের সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের এ শপথ নিয়েছিলেন।
13/07/2026


