মূলত নিজেকে জবাই করেছেন ড. অলি।ইতিহাসে শুধু নবাব সিরাজদৌলা নন, মীরজাফরও থাকেন। বঙ্গবন্ধু শুধু নন, খন্দকার মোস্তাকও থাকেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা শুধু নন, সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ট ইউনুসও থাকেন….
কথায় কথায় ভারতের বিরোধিতাকারী এই জোট সঙ্গীরা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে অন্তত জাতীয় ঐক্য তৈরি করে ভারতসহ বিশ্ববাসীকে তাদের শক্তির দৃঢ়তা জানান দিতে পারতেন।

বিএনপির মনোনয়নে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে বিজয়ী হলেন দলটির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে জামায়াত-এনসিপি সহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিজিত প্রার্থী হলেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা ফখরুল কিভাবে হারালেন চট্টগ্রামের অলিকে ! মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির রাজনীতিতে অপেক্ষাকৃত পরে যুক্ত হলেও বিএনপির আতুরঘরের যন্ত্রণার সাথী ছিলেন ড. কর্নেল (অ.)অলি আহমেদ বীর বিক্রম। জন্মের পর থেকে দীর্ঘদিন বিএনপির অন্যতম এই নীতি নির্ধারক পরবর্তীতে নতুন দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি(এলডিপি) করে জামায়াত জোট সঙ্গী হযে কীভাবে হারলেন রাষ্ট্রপতি পদে? -এ নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি জল্পনা-কল্পনা চলছে, বলাবলি হচ্ছে, অলি আহমেদ কি রাজনীতির বলি হলেন? এও বলাবলি হচ্ছে, জোট সঙ্গীরা কি অলির উপর পুরনো কোন বদলা নিলেন?
চট্টগ্রাম থেকে স্বাধীনতার পর এই যাবৎ দুইজন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি ভোট করেছেন ! এ নিয়ে কেউ কেউ সামাজিক মাধ্যমে আত্মতুষ্ঠিতে ভুগছেন! তাদের মধ্যে আমাদের প্রিয়জনও কেউ কেউ রয়েছেন। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলতে চাই, ইতিহাসে শুধু নবাব সিরাজদৌলা নন, মীরজাফরও থাকেন। বঙ্গবন্ধু শুধু নন, খন্দকার মোস্তাকও থাকেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা শুধু নন, সাম্রাজ্যবাদীদের এজেন্ট ইউনুসও থাকেন। বাকিটা নাই বললাম।
ইতিহাস পরাজিতদের স্মরণ করেনা। আর তা যদি হয় দেশবিরোধী শক্তির হাত ধরে, তা তো কথা’ই নেই।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়া এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন। প্রতিদ্বন্দ্বী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। মোট ভোটার- ৩৪৯ জন। ভোট পড়েছে- ৩৪৩টি।
মুক্তিযোদ্ধা হয়ে রাজাকারদের সমর্থন নিয়ে তিনি নিজের প্রতিই অবিচার করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর প্রতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাস্রিত উত্তর প্রজন্মের যেই ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ ছিল, তাও হারিয়েছেন । একজন বীর যোদ্ধা, একজন সামরিক অফিসার, একজন লেখক কিংবা একজন প্রতিবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর যেই দীর্ঘকালীন পরিচিতি তাকে যেন তিনি নিজেই কুঠারাঘাত করেছেন …

এদিকে, বিজয়ী না হলেও চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটাও ‘ইতিহাসের অংশ’ বলে উল্লেখ করে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগছেন যারা, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, মূলত নিজেকে জবাই করেছেন ড. অলি।
মুক্তিযোদ্ধা হয়ে রাজাকারদের সমর্থন নিয়ে তিনি নিজের প্রতিই অবিচার করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁর প্রতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাস্রিত উত্তর প্রজন্মের যেই ন্যূনতম শ্রদ্ধাবোধ ছিল, তাও হারিয়েছেন । একজন বীর যোদ্ধা, একজন সামরিক অফিসার, একজন লেখক কিংবা একজন প্রতিবাদী রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর যেই দীর্ঘকালীন পরিচিতি তাকে যেন তিনি নিজেই কুঠারাঘাত করেছেন ।
অলি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময়ের হেভিওয়েট লোক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখ যোদ্ধা। স্বাধীন বাংলাদেশের ছয়বারের এমপি। বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে বিএনপিরই প্রতিষ্ঠা কাল থেকে দীর্ঘকালীন অন্যতম প্রধান নীতি নির্ধারক। মন্ত্রী হিসেবে তাঁকে অসফল বলা যাবে না। বরং নিজের এলাকার প্রতি এমন দায়বদ্ধ এমপি বাংলাদেশ খুব কমই দেখেছে। তাছাড়া, তিনি নিজেই বলেছেন রাষ্ট্রপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে সার্কিট হাউজে শহীদ হওয়ার পর জিয়া পুত্র ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে বুকের মধ্যে আগলে ধরে জানাজায় নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং জানাজা শেষে তাঁদের মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী (সে সময়ের মরহুম রাষ্ট্রপতি পত্নী) বেগম জিয়ার কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তাহলে আজ বিএনপি যখন সংসদে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ, তখন সেই দুঃসময়ে জিয়া পরিবারের দুই উত্তরাধিকারকে বুকে আগলে রাখা অলি আহমেদের রাষ্ট্রপতি পদে এমন পরাজয় কেন? সংসদের সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষ শক্তি নিজেদের জুলাই শক্তি হিসেবে যখন জানান দিতে বদ্ধপরিকর, তখন কেন ঘটলো এমন ঘটনা?
চট্টগ্রামের আরেক বিতর্কিত সন্তান আমাদের ইউনুস নানাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাবার জন্য অনেকেই মরিয়া হয়ে সামাজিক মাধ্যমে গল্প লিখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইউনুস নিজেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অন্যদিকে ড. ইউনুস এই যাত্রায় নতুন করে ‘রাষ্ট্রপতি’ না হয়ে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল’র এ বিজয়ে অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।…..
অন্যদিকে অলিকে হারিয়ে বিজয়ী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘ। কর্মজীবনের শুরুতে শিক্ষকতা করেন, পরে সরকারি চাকরিও করেন। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য হন। সেবার বিএনপি সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পান। বিএনপির অন্যতম প্রধান মুখপাত্র ও নীতিনির্ধারক ছিলেন ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুক্তিযুদ্ধকালীন পৈত্রিক পরিচিতি পরবর্তী বাস্তবতার দৃষ্টিভঙ্গিতে তেমন সুখকর ছিল না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মির্জা ফখরুল মুক্তিযুদ্ধকালীন তেমন উল্লেখযোগ্য পরিচিতি ধারণ করতে না পারলেও স্বাধীন বাংলাদেশ পুরোটা সময় জুড়ে তিনি জনমানুষের সাথে ছিলেন।
তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রের প্রধান হয়েছেন। এটি তাঁর অর্জন। এই অর্জন তাঁর ব্যক্তি স্বচ্ছতা, দল ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি।
বিগত আওয়ামীলীগ আমলেও একই সময় কালে দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নির্বাহী হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনায় আমি বরাবরই মির্জা ফখরুল সাহেবের পক্ষে ছিলাম। ওবায়দুল কাদেরও এক সময়ে রসিকতায় বলেছিলেন, অঘটন কিছু ঘটলে তিনি (ওবায়দুল কাদের) মির্জা ফখরুল ইসলামের বাড়িতেই আশ্রয় নেবেন!
বিএনপির এই শীর্ষতম নেতা আমার আদর্শিক বাঙালি চেতনা বোধের ভিন্নধারার হলেও একজন পেশাজীবী ভদ্র সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে, অন্য অনেকের মত ‘ফাতরা কথা ‘ না বলে দীর্ঘকালীন জেল জুলুম ত্যাগ তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে নির্মোহভাবে হেঁটেছেন নিজের পথে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁকে সম্মান জানিয়েছেন। চিকিৎসার্থে অর্থ সহায়তা দিয়েছিলেন।
বিএনপি প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই, বৈশ্বিক রাজনীতির ধোঁয়াটে পরিস্থিতিতে এমন একজন অভিজ্ঞ সর্বজন গ্রহণযোগ্য রাজনীতিবিদকে তিনি ‘রাষ্ট্রপতি’ হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন ।
আরেকটি ব্যাপার খুবই প্রাসঙ্গিক। অলির প্রার্থিতা নিয়ে জামাত-এন সি পি জোটে যখন আলোচনা, তখনো তাদের ভাবগুরু খ্যাত সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, চট্টগ্রামের আরেক বিতর্কিত সন্তান আমাদের ইউনুস নানাকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে পাবার জন্য অনেকেই মরিয়া হয়ে সামাজিক মাধ্যমে গল্প লিখেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ইউনুস নিজেই বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর বিজয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ড. ইউনুস এই যাত্রায় নতুন করে ‘রাষ্ট্রপতি’ না হয়ে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল’র এ বিজয়ে অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিও অভিনন্দন জানান নতুন রাষ্ট্রপতিকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটিও স্মরণ রাখবার মত আলোচনার বিষয়।
বরেণ্য রাজনীতিবিদ গণমানুষের প্রতিনিধি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অবশেষে অনেক জল্পনা কল্পনা উড়ো কথা সংশয় আশঙ্কা মাড়িয়ে বাংলাদেশের ‘মহামান্য’ নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁকে, তাঁর অর্জনকে একজন নাগরিক কিংবা পেশাজীবী প্রতিনিধি হিসেবে শ্রদ্ধা জানাই।
অন্যদিকে, জীবনের সব অর্জনকে বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারি শক্তির সাথে আঁতাত করে রাষ্ট্রপতি হওয়ার ‘খায়েস’ জানানো চট্টগ্রামের আরেক বিস্মৃত হতে যাওয়া পথের যাত্রী ড. কর্নেল ( অব.) অলি আহমেদকে জানাই গভীর সমবেদনা।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অলি আহমেদ যখন জামাযাত-এনসিপি মিত্র জোটের হয়ে নিজে প্রার্থী না হয়েও একটি মাত্র আসনে তাঁর সন্তানকে জিতিয়ে আনতে পারলেন না, অথচ আওয়ামী লীগ ও তার মিত্র জোট বিহীন সেই নির্বাচনে বিএনপি’র সাথে ‘ভাগাভাগির দফারফা’ সংক্রান্ত জামায়াত-এনসিপির বিজয়ের ব্যাপারে জনমনে ব্যাপক আলোচনা, তখনই ড. অলির পতনুন্মুখ রাজনীতির কথা ভেবে আমি চট্টগ্রামের নাগরিক হিসেবে ব্যাপক ব্যথিত হই।
মনে প্রশ্ন জেগেছিল, দেশের রাজনৈতিক বড় একটি অংশকে মাঠের বাইরে রেখেও ‘সমঝোতার নির্বাচনে’ আমির হামজারাও যখন এমপি, তখন অলি আহমেদের দীর্ঘদিনের নিশ্চিত বিজয়ের আসন চন্দনাইশে তাঁরই প্রতিনিধি, তাঁর সন্তানকে হারতে হল কেন?! মুক্তিযোদ্ধা অলির সন্তানকে কারা বলি দিলেন? কেন বলি দিলেন? তখনই তাঁর ( অলি আহমেদের) ভবিষ্যতে যাত্রাপথ নিয়ে অশনি শংকা করেছিলাম।
আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মুসলিম লীগারের সন্তানের বিপক্ষে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার পরাজয় অনেক কিছুই স্পষ্ট করে দিয়েছে, জানিনা অলি আহমেদ সব বুঝতে পারছেন কিনা !
তিনি কি এটা বুঝতে পারছেন, আওয়ামীলীগ বিরোধী ২৪ এর রঙিন প্লাবনে একাকার হওয়া ‘জুলাই শক্তি’ রাষ্ট্রপতি পদে যেখানে জাতীয় ঐক্য তৈরি করে একজন মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিবিদের পক্ষে দাঁড়াতে পারতেন, কিন্তু কেন তা হলো না? – এই প্রশ্নের সোজা সাপটা উত্তর এমনও হতে পারে, তাঁর জোট সঙ্গীরাই সেটি চাননি। চাইলে তো কথায় কথায় ভারতের বিরোধিতাকারী এই জোট সঙ্গীরা প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে অন্তত জাতীয় ঐক্য তৈরি করে ভারতসহ বিশ্ববাসীকে তাদের শক্তির দৃঢ়তা জানান দিতে পারতেন।
এই একই জানান দেওয়াটা অবশ্য জামায়াত তাদের এই পৃথক প্রার্থী না দিয়ে, অলি আহমেদের দীর্ঘদিনের অর্জনকে বিসর্জন না দিয়ে, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সমর্থন দিয়েও পারতেন। প্রশ্ন তাই এখানেও, জামাযাত- এনসিপি কি ভুল পথে এগুলো? যাক। ‘কাটা ঘায়ে আর নুনের ছিটা দিতে’ চাইনা।
আওয়ামী লীগের কাছ থেকে যেরকম রাজনৈতিক পরিবেশ ড. অলি কিংবা তাঁর মত রাজনীতিবিদরা আশা করতেন, তাঁদের এখন অনুধাবন করা উচিত, ২৪ পরবর্তী ইনুস জামানায় মুক্তিযোদ্ধাদের টানা অপমান লাঞ্ছনার পর এখন সেই ন্যূনতম পরিবেশও আর অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির স্রোতধারাও এখন তাঁর বা তাঁদের মিত্র জোট জামায়ত-এনসিপি-ইউনুস বলয়ে আর নেই।…..
লেখাটির বাকি অংশ দেখুন নিচে সংযুক্ত’র পর…
একসময় অলি আহমেদকে তাঁর পথচ্যুতি এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের এক সমাবেশে ‘চট্টগ্রামে অবাঞ্চিত’ ঘোষণা করেছিলাম। চট্টগ্রাম আদালত ভবনে বিগত আওয়ামীলীগ আমলে তিনি অবশ্য অনাকাঙ্খিত হামলারও শিকার হয়েছিলেন। সে ঘটনাও আমি নাগরিক হিসেবে ব্যাথিত হয়েছিলাম। তবে এখন আমি আর অলি আহমেদকে ‘অবাঞ্চিত’ করার মতও প্রাসঙ্গিক মনে করছি না। তাঁকে আমি এখন স্বাগত জানাতে চাই তার জন্মভূমি বিশ্রামের জন্য। জামায়াত সঙ্গ বাদ দিয়ে বিগত সুদীর্ঘ কর্মকালের সত্যনিষ্ঠ স্মৃতিচারণের জন্য।
রাজনীতির জন্য রক্ত ঝরেছে তাঁর। আওয়ামী লীগের কাছ থেকে যেরকম রাজনৈতিক পরিবেশ ড. অলি কিংবা তাঁর মত রাজনীতিবিদরা আশা করতেন, তাঁদের এখন অনুধাবন করা উচিত, ২৪ পরবর্তী ইনুস জামানায় মুক্তিযোদ্ধাদের টানা অপমান লাঞ্ছনার পর এখন সেই ন্যূনতম পরিবেশও আর অবশিষ্ট নেই। তাছাড়া, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির স্রোতধারাও এখন তাঁর বা তাঁদের মিত্র জোট জামায়ত-এনসিপি – ইউনুস বলয়ে আর নেই।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর বহু জল এখন বঙ্গোপসাগর ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগরে। এই শ্রোতধারার বহু ঘূর্ণির মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা অলিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি কী বলি দিলেন? – এমন প্রশ্ন আজ আলোচনায়।
কেননা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকায় নিশ্চিতভাবেই একক সংখ্যাগরিষ্ট দল হিসেবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামই ‘রাষ্ট্রপতি’ পদে জিতবেন, এটা তো আগেই জানা ছিল। তা সত্ত্বেও জামায়াত ইসলামী ও মিত্ররা ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রমকে কেন প্রার্থী করলেন? এটি কি জামাতের আরেকটি ভুল চাল? নাকি মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছনার কৌশল? নাকি জোট সঙ্গীকে সাথে রেখে ভারত মহাসাগর মুখো উর্মি মালায় বিসর্জনের ভাসান যাত্রা?!
( রিয়াজ হায়দার চৌধুরী : সভাপতি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাধারণ সম্পাদক পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ এবং সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। )
২০/০৮/২০২৬ ২৩:৫৮।
#রাজনীতি #বাংলাদেশের_রাজনীতি #মির্জা_ফখরুল #মির্জা_ফখরুল_ইসলা_আলমগীর #অলি_আহমেদ #ড_কর্নেল_অবসরপ্রাপ্ত_অলি_আহমেদ_বীর_বিক্রম #রাষ্ট্রপতি #বাংলাদেশ #বিএনপি #রাষ্ট্রপতি_নির্বাচন #বিএনপি #জামায়াত_ইসলামী #এনসিপি #জাতীয়_নাগরিক_পার্টি


