বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজিব ওয়াজেদ জয় তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিনে লিখেছেন আবেগঘন একটি লেখা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফাইড আইডি থেকে বঙ্গবন্ধুর নাতি সজীব ওয়াজেদ জয় তাঁর মা সম্পর্কে নিজের অনুভূতি মালা দেশ-বিদেশের বন্ধুদের উদ্দেশ্যে প্রকাশ করেছেন। তাঁর লেখাটি হুবহু উপস্থাপন করা হলো –

‘১৯৪৭ সালের বিভক্তির চুড়ান্ত সময়ের প্রাক্কালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলো। সেই দাঙ্গার সময়ে যুক্তবাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। শেখ মুজিবের প্রিয় নেতা তাঁকে বললেন, “এই দাঙ্গার সময়ে শুধু সরকারী কর্মচারীদের উপরে ভরসা করতে পারছি না। তাই তুমি যদি ছাত্রলীগ ও মুসলিম লীগ ন্যাশনাল গার্ডের একটা ভলান্টিয়ার কোর গঠন করে বর্ডারে গিয়ে শরণার্থীদের আসা-যাওয়ার বিষয়টি তদারক করো তবে আমি নিশ্চিন্ত থাকি”।
-একথা বলেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী দ্বিধাগ্রস্তভাবে শেখ মুজিবের দিকে তাকিয়ে বললেন, “ আমি জানি রেণুর শরীর ভালো নয়। তোমার উচিৎ তাকে সঙ্গ দেওয়া। অবশ্য আরো প্রায় দশদিন সময় বাকী আছে কাজ শুরু হতে। তুমি ভেবে দেখো। আর তোমার পক্ষে সম্ভব না হলে অন্য কারো নাম সাজেষ্ট করতে পারো”।
“আপনি শুধু আমার স্বামী হওয়ার জন্য জন্ম নেননি, দেশের কাজ করার জন্যও জন্ম নিয়েছেন। দেশের কাজই আপনার সবচাইতে বড় কাজ। আপনি নিশ্চিন্ত মনে আপনার কাজে যান। আমার জন্য চিন্তা করবেন না। আল্লাহর উপরে আমার ভার ছেড়ে দিন”। …..

শেখ মুজিব শুধু কয়েকদিন সময় নিয়ে চলে এলেন। তখন বেগম মুজিব অন্তঃসত্ত্বা। ভেবেছিলেন এই সময়ে হয়ত স্বামীকে কাছে পাবেন। কিন্তু শেখ মুজিব কলকাতার ঘটনাপ্রবাহ উল্লেখ করে চিঠি লিখলেন। দ্রুতই উত্তর পেলেন। সেই উত্তরে স্বামীকে নিশ্চিন্তে তার কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লেখেন, “আপনি শুধু আমার স্বামী হওয়ার জন্য জন্ম নেননি, দেশের কাজ করার জন্যও জন্ম নিয়েছেন। দেশের কাজই আপনার সবচাইতে বড় কাজ। আপনি নিশ্চিন্ত মনে আপনার কাজে যান। আমার জন্য চিন্তা করবেন না। আল্লাহর উপরে আমার ভার ছেড়ে দিন”। গ্রামের অল্পবয়সী একজন নারী যার প্রাতিষ্ঠানিক কোনো শিক্ষা নেই, তিনি এরকম কথা লিখেছেন ব্রিটিশ ভারত যুগে। চিন্তা করা যায়!
এখানেই স্বামীকে দেশের জন্য উৎসর্গ করা একজন বিদুষী নারীর চরিত্র ফুটে উঠে। এমনি একজন মহিয়সী নারীর গর্ভে জন্ম নিয়েছেন আমার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা।




শেখ মুজিব এই চিঠি পাওয়ার পরেই তার নেতা শহীদ সোহরাওয়াদী’র নিকট গিয়ে শরণার্থীদের তদারকিতে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করলে শহীদ সাহেব বিস্মিত হয়ে বললেন, “তুমি রেণুর সঙ্গে পরামর্শ করেছো? শেখ মুজিব হ্যাঁ সূচক জবাব দিয়ে বললেন, “চিঠি পেয়েছি। সে (রেণু) নিশ্চিন্তে দেশের কাজে যেতে বলেছে।” শহীদ সাহেব রাশভারী মানুষ ছিলেন। ভাবাবেগ প্রকাশ করতেন না। কিন্তু সেদিন শেখ মুজিবকে বললেন, “Mujib, She is a precious gift to you from God. Don’t neglect her please.” অর্থাৎ, সে(রেণু) তোমার জন্য খোদার দেওয়া অমূল্য দান। তাকে অবহেলা করো না।”
পরবর্তী ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কথা কত সত্য। বেগম মুজিবের এই পত্র লেখার সময়ে তিনি যে সন্তানটি গর্ভে ধারণ করছিলেন তিনিই শেখ মুজিবের আদরের ‘হাচু’, বাংলাদেশের মানুষের জননেত্রী শেখ হাসিনা।
প্রচলিত আছে, সন্তান গর্ভে থাকাকালীন সময়ে অন্তঃসত্ত্বা জননী যা ভাবে, স্বপ্ন দেখে; সন্তানের মধ্যে সেগুলোই প্রতিফলিত হয়।

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জন্য ‘সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ গঠন সহ অবিস্মরণীয় অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘কৃতজ্ঞতা স্মারক ক্রেস্ট’ প্রদান করছেন সাংবাদিক নেতা ও পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক
রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যেমন বেগম শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের চরিত্রের উজ্জ্বল একটি দিক প্রতিভাত হয়, ঠিক তেমনি অন্তঃসত্ত্বাকালীন একজন মায়ের ভাবনা-চিন্তার প্রতিফলন হিসেবে ১৯৪৭ সালের এই দিনে জন্ম নেওয়া শিশুটির উপরেও সেটার চূড়ান্ত প্রভাব প্রমাণিত হয়।
ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, শেখ হাসিনার নিরন্তর সংগ্রামী চেতনার প্রেরণা পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাতা বেগম শেখ ফজিলাতুণ নেছা মুজিবের রক্তের ধারাবাহিকতায়-ই এসেছে।
শুভ জন্মদিন, মা!
— সজীব ওয়াজেদ জয়
#SheikhHasina #Bangladesh



