নিউজ ব্যাংক বাংলা, চট্টগ্রাম:
সর্বশেষ জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান ড. মুহাম্মদ ইউনুস যখন চীন সফরে ব্যস্ত, তাঁর সমর্থকরা যখন নির্বাচনের চেয়ে সংস্কারকে বেশি গুরুত্ব অব্যাহত রেখেছেন, তখন চট্টগ্রামেরই আরেক কৃতি সন্তান বিএনপি’র অন্যতম শীর্ষ নেতা সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারকে বলে দিয়েছেন সাফ কথা।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব যখন ৬০ বছরে থাকা গণতান্ত্রিক পরম্পরায় নির্বাচিত কমিটিকে ঠেকিয়ে গত ৫ আগস্ট পরবর্তী বেদখলে রয়েছে, তখন চট্টগ্রাম বিএনপির এই শীর্ষতম নেতা বলেছেন, ‘রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের পাশাপাশি চলতে হয়। একটি অপরটিকে ছাড়া যথাযথভাবে কার্যসিদ্ধি হয় না। ‘

সাংবাদিকদের উদ্দেশে আমীর খসরু বলেন, চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের অভিযোগ ছিল আমি ঢাকায় বেশি সময় দিই। এজন্য আমি ঠিক করেছি আজকে কোনো ফরমাল প্রোগ্রাম করব না। আমি চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি থাকা অবস্থা থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অন্তত ৪০ বছরের। ‘
এ সময় আমীর খসরু বলেন, “এখন অনেকের মাঝে শেখ হাসিনার সুরে কথা বলতে দেখছি। শেখ হাসিনা বলতেন, ‘আমরা উন্নয়ন করছি।
বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। নির্বাচন কেন দরকার?’ অন্তর্বর্তী সরকারও বলতে শুরু করেছে, ‘আমরা সংস্কার করছি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন করছি। ‘
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন,”সংস্কার আপনাদের কাজ না’।
তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন, ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন। সংস্কার আপনাদের কাজ না। আপনাদের কাজ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা। জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।
শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম ক্লাবে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সর্বশেষ নির্বাচিত সভাপতি সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে’র সদ্য নির্বাচিত সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের (একাংশের) অন্তর্বর্তী কমিটির সচিব জাহিদুল করিম কচি, দৈনিক জনকণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক মোয়াজ্জেমুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক জসিম চৌধুরী সবুজ, রফিকুল বাহার, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন- সিএমইউজে’র সভাপতি মোঃ শাহনাওয়াজ ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, সিইউজে’র নব নির্বাচিত সহ সভাপতি সাইদুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল আলম শামীম, সিইউজে’র অর্থ সম্পাদক সরওয়ার সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সুবল বড়ুয়া, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি নাসির উদ্দিন তোতা ও সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারী রুনা, ৭১ টেলিভিশনের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সাইফুল ইসলাম শিল্পী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের ব্যুরো প্রধান ও বিশেষ প্রতিনিধি মজুমদার নাজিম উদ্দিন, আমাদের সময়ে’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্লাহ, সময় টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি ও চট্টগ্রাম প্রধান প্রমল কান্তি দে কমল, এনটিভি’র সিনিয়র রিপোর্টার আরিচ শাহ, দৈনিক পূর্বকোণের চিফ রিপোর্টার সাইফুল আলম, দৈনিক পূর্বদেশের বার্তা সম্পাদক মোশারফ রাসেল, সিইউজের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী, বিডি নিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম এর চট্টগ্রাম ইনচার্জ মিন্টু চৌধুরী, সারাবাংলা ডট কম এর চট্টগ্রাম প্রধান রমেন দাশগুপ্ত, জাগো নিউজ ২৪ এর চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ইকবাল হোসেন, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব সহ বিভিন্ন সংবাদপত্র অনলাইন মাধ্যম সহ গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
‘গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ব্যর্থ করতে ষড়যন্ত্র চলছে’ বলে মন্তব্য করে আমির খসরু বলেন, ‘গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে এনে বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক, রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই একমাত্র পথ। আর তার বাহক হচ্ছে দেশের জনগণের ভোটে একটি নির্বাচিত সরকার গঠন করা। যারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন, জবাবদিহিতা থাকবে এবং একটি নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আবার গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনা। সেই গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে এবং নির্বাচনের ক্ষেত্রে যেসব ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’
তিনি বলেন, দীর্ঘসময় পর একটি স্বৈরাচারী সরকার বিদায় নিয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে গেছেন। রাজনীতিতে এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।’
‘গণতন্ত্র ছাড়াই দেশ অতিবাহিত হচ্ছে’ উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ‘দেশে প্রত্যেক দিন গণতন্ত্র ছাড়া অতিবাহিত হচ্ছে। দয়া করে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন। মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেন। সংস্কার যেটা বলছেন এটা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার যাবতীয় সংস্কার করবে।’
