বন্দরকে ডেভেলপমেন্ট চার্জ আরোপ, গণমাধ্যমকে রক্ষার দাবি, সিটি গভর্মেন্ট নিয়ে আক্ষেপ মেয়রের

Must Read

ইত্তেফাকের ৭৩ বছর পদার্পণ ও প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে চট্টগ্রামে সুধীজনের মিলন মেলা । ইত্তেফাক চট্টগ্রাম অফিস দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়। দিনভর ছিল চায়ের আড্ডা,কেক কাটা, আলোচনা ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর্ব।

 

নিউজ ব্যাংক বাংলা, চট্টগ্রাম : দৈনিক ইত্তেফাকের ৭৩ বছর পদার্পণ ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাঙালির সকল সংগ্রামে ইত্তেফাক প্রেরণা দিয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠক সমাজ ইত্তেফাকের পাতায় জীবনের সন্ধান খুঁজেছে। ইত্তেফাক এদেশের মানুষকে গুরুতর সংকটের মাঝেও কী করে বাঁচতে হয় তা শিখিয়েছে। গতকাল বুধবার নগরীর জুবলী রোডস্থ ইত্তেফাক চট্টগ্রাম অফিসে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

অনুষ্ঠানে রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শুভানুধ্যায়ীরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা, আলোচনা আড্ডায় অংশ নেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইত্তেফাক চট্টগ্রাম অফিস দৃষ্টিনন্দন করে দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো হয়। দিনভর ছিল চায়ের আড্ডা ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর্ব।

ইত্তেফাকের ৭৩ তম বর্ষে পদার্পণ অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে আসেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন– নিউজ ব্যাংক বাংলা

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনে বাঙালির আত্মপরিচয় নির্মাণে ইত্তেফাক ভূমিকা রেখেছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ইত্তেফাকের ভূমিকা ছিল অসাধারণ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় ইত্তেফাকের ভূমিকা অনন্য। তিনি বলেন, বারবার আবেদন জানানো সত্ত্বেও এখনো  সিটি গভর্নমেন্টের দাবি মেনে নেয়া হয়নি। অথচ বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মতো নগরী নানা দেশে সিটি গভর্নমেন্ট দ্বারাই পরিচালিত হয়। আমার সার্বক্ষণিক চিন্তার জায়গা হচ্ছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়ন। এই উন্নয়ন হতে পারে সিটি গভর্নমেন্ট বা নগর সরকারের মাধ্যমে।

 চট্টগ্রামের প্রথম মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী সহ অতিথিবৃন্দ প্রথম পর্বে কেক কাটেন

তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূলতঃ শহরগুলো অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য দরকার হচ্ছে সিটি গভর্নমেন্ট। আমি গত ১০/১২ মাস ধরে এনিয়ে চিৎকার করেও কোনো সুফল পাইনি।

তিনি বলেন, আমি চমৎকার রাস্তা করে দিয়েছি, আর অন্যদিকে ওয়াসা সেখানে খোড়াখুড়ির কাজ করছে। প্রতিটি সেবা সংস্থা একেকটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। নগর সরকার না হলে আমাদের সমন্বয়হীনতার এই সমস্যা যাবে না।

বক্তব্যকালে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বলেন, নৌ পরিবহন উপদেষ্টা একটি কথা বলেছেন, সে পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছি, আসলে যদি বন্দরে চাঁদাবাজি হয়ে থাকে ডেইলি ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা, তাহলে বছরে চাঁদাবাজি হয়  ৭২০ কোটি টাকা। এই টাকাটা অনৈতিকভাবে যারা  দিচ্ছেন বলেন তারা তো  প্রশ্রয় দিচ্ছেন। কিন্তু আমার ন্যায্য হোল্ডিং ট্যাক্স ২৬৪ কোটি টাকা বন্দর পরিশোধ করছে না। বন্দরের স্থাপনা আছে ১ কোটি ৯৭ লক্ষ স্কয়ারফিট। এখান থেকে  জয়েন সার্ভেতে ২০ লক্ষ স্কয়ারফিট বাদ দেয়া হয়েছে। এটা আমাদের ন্যায্য পাওনা। এটা হোল্ডিং ট্যাক্স এটা দিতে হবে। এই টাকা চট্টগ্রামবাসীর উন্নয়নে খরচ করতে হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, বন্দরে প্রতিনিয়ত যে গাড়ি আসছে সেগুলো চট্টগ্রামের রাস্তা নষ্ট করছে। আমার রাস্তার ধারণ ক্ষমতা ৮ থেকে ১০ টন, তাদের গাড়ি আসছে ২৫ থেকে ৪০ টন। বন্দর থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স পাওয়াটা আমার ন্যায্য হিস্যা। এটা আমাদের দেয়া উচিৎ। আমি তো ব্যবসায়ী না, আমি তো সেবক। আমাকে ৯৬ কোটি টাকা বছরে ভর্তুকি দিতে হয়। আমাকে শিক্ষা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতেই হবে। আমি ২৪০ কোটি টাকা চেয়েছি। কিন্তু আমাকে কখনো ৩০ কোটি, কখনো ৪০ কোটি টাকা খয়রাতি সাহায্যেরে মতো দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে। ভোটের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এসব সমস্যা দূর হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। 

মেয়রের বক্তব্যের আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ( চবক)কে চসিকের বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধে গরিমসি করলে প্রয়োজনে  নতুন করে ‘ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স’ আরোপ করতে দাবি জানান চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি, পেশাজীবি নাগরিক সংগটক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। একইসাথে চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকে দখলদারদের কবর থেকে বাঁচানোর আহবান জানান এই সাংবাদিক নেতা।

বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

তিনি বলেন, সড়ক অবকাঠামো মেনটেনেন্স সহ শহরবাসীর সেবা অব্যাহত রাখতে নতুন করে এই চার্জ আরোপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। একই সাথে, ২৪ পরবর্তী গণমাধ্যমে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার পাগলা ঘোড়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এজন্য আসন্ন জাতীয় সংসদের সব প্রার্থীকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয় দখল মুক্ত করে ঐক্য- সাম্য নিশ্চিতে সিটি মেয়রকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধও জানান সিইউজে সভাপতি।

এদিকে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরবাসীর উন্নয়ন, সেবা নিশ্চিতে যাবতীয় অসংগতি ও বাঁধা দূর করতে স্ংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেন।

ইত্তেফাক পরিবারের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান দৈনিক ইত্তেফাক চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সালাহউদ্দিন মো. রেজা ও চট্টগ্রাম অফিসে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

ইত্তেফাকের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সালাহউদ্দিন মো. রেজাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সিইউজে, বিএফইজে,প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ – নিউজ ব্যাংক বাংলা

কেক কাটা ও আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন  প্রধান অতিথি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি চট্টগ্রামের প্রথম মেয়র ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন- সিইউজে সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি শহীদ উল আলম, দৈনিক নয়াবাংলার সম্পাদক জেডএম এনায়েত উল্লাহ হিরো, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, সিইউজে সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ, বিজিএমইএ’র পরিচালক সাইফুল্লাহ মনসুর, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার্স এসোসিয়েশনের (বাফা) সাবেক সহ-সভাপতি খায়রুল আলম সুজন, দৈনিক জনকণ্ঠের ডেপুটি এডিটর মোয়াজ্জেমুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক জসিম উদ্দিন চৌধুরী সবুজ, নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বাদল, এনজিও নেত্রী অপু বৈদ্য ।

ইত্তেফাক পরিবার, চট্টগ্রাম

মনমুগ্ধ আয়োজনে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও নিউজ ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরীকে কেক খাইয়ে দেন প্রেসক্লাব সভাপতি ও ইত্তেফাকের ব্যুরো প্রধান সালাউদ্দিন মোহাম্মদ রেজা

দৈনিক ইত্তেফাক চট্টগ্রাম অফিসের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নসরুল কদির, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডক্টর ইদ্রিস আলী, সিইউজে সিনিয়র সহ সভাপতি স.ম ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি চৌধুরী ফরিদ,  সহ-সভাপতি মঞ্জুরুল কাদের মঞ্জু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, বিএফইউজে’র এর সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসিফ সিরাজ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক  কো-অপারেটিভ সোসাইটি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, সেক্রেটারি যীশু রায় চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান স্বপন মল্লিক, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আলম মঞ্জু, সিইউজের সাবেক সহ-সভাপতি পংকজ দস্তিদার, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক, সিনিয়র আলোক চিত্র সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা  দেবু প্রসাদ দাশ দেবু, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্বাহী সদস্য , চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের প্রচার প্রকাশনা সম্পাদক খোরশেদুল ইসলাম শামীম, সিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক সুবল বড়ুয়া, নির্বাহী সদস্য আহসান হাবিবুল আলম, দৈনিক খবরের কাগজের ব্যুরো প্রধান এস এম ইফতেখারুল ইসলাম, দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম সেলিম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য আইয়ুব আলী, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম’র সাধারণ সম্পাদক মিয়া আলতাফ, সুলতান মাহমুদ সেলিম,  সাইফুদ্দিন তুহিন, শফিকুল ইসলাম খান, বিশু রায় চৌধুরী, সুমন গোস্বামী, মাহবুবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রবীণ পাঠক ডা. দুলাল দাশ, শেখ নাঈম উদ্দিন, আল্লামা রেজাউল কায়সার প্রমুখ।

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img
Latest News

ছয় মাসে সিঙ্গেল ডিজিটে আসবে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি

চট্টগ্রামের প্রতিটি ইউনিয়নে ভূমি সেবা না থাকাটা 'দুঃখজনক' উল্লেখ করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল...
- Advertisement -spot_img

More Articles Like This

- Advertisement -spot_img