গণমাধ্যম বন্দি রেখে কোন নির্বাচন? কেন নির্বাচন?

Must Read

বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের সাংবাদিকরা একের পর এক গ্রেফতার হয়ে কারাগারে। অনেকেই রাজনৈতিক আক্রোশে মামলার পর মামলায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে আত্মগোপনে! তাঁদের পরিবারগুলোয় চরম কষ্ট। বোবা কান্না। ২৪ পরবর্তী পরিবর্তিত বাংলাদেশেে কেন্দ্র, বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে অনেক সাংবাদিকই চাকরি হারিয়েছেন। পেশাদারদের চাকরিচ্যুত করে অপেশাদার ভূইফোড়দের দখলে নেয়া হচ্ছে গণমাধ্যম। টেলিভিশন ও সংবাদপত্র পরিচালনায় নিয়োজিত শিল্প গ্রুপগুলোও আছে মব অ্যাটাকের চাপে।
এসবের মধ্যেই বাংলাদেশে চলছে অত্যাসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ডামাঢোল।
এমন পরিপ্রেক্ষিত থেকেই লিখেছেন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রায় ৩৫ বছর ধরে কাজ করা সাংবাদিক নেতা, সংগঠক ও কলামিস্ট


গণমাধ্যম এখন বন্দি। দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সাংবাদিকসহ অনেকেই জেল জুলুম মামলা হামলা নির্যাতন সহ্য করছেন। অনেক গণমাধ্যম কর্মীর বিরুদ্ধে এখনো মামলা রয়েছে। অসংখ্য। রাজনৈতিক প্রভাবে চাকরি খাওয়া অব্যাহত রয়েছে। পেশাদারদের চাকরি খেয়ে অপেশাদানদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে ধারাবাহিকভাবেই।

‘ফ্যাসিস্ট সহযোগ’ কিংবা ‘রাজনীতি সম্পৃক্ততা’র অজুহাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেসক্লাব দখল করে দেদারসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে আগামীর মন্ত্রী এমপি হতে চলা বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা দখল করা সেইসব প্রেস ক্লাবে গিয়ে অপেশাদার ও রাজনৈতিক কর্মী কাম সাংবাদিকদের সাথেই মতবিনিময় করছেন! অথচ তারাই ‘গাল ভরে’ অবাধ মুক্ত সাংবাদিকতা বা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর মানুষের মুক্তির কথা বলে বেড়ান।

আমরা খুব আশাবাদী হয়েছিলাম ২৪ এর ৫ আগস্ট অস্থির অনিরাপদ উৎকণ্ঠাময় একটি সময়ে বাংলাদেশের ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের স্মারক প্রতিষ্ঠান, প্রিয় সেনাবাহিনী প্রধান গণমাধ্যমের বদৌলতে  জাতিকে আশ্বস্ত  করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিলাম ‘…..

………………………………………………………………………………………………………..বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়কালে বিশেষ বিশেষ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে ‘অতি আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠা ‘গুপ্ত’ বা বর্ণচোরারা এখন ‘অতি বিএনপি’ কিংবা ‘অতি জামায়াত’ বা ‘অতি এনসিপি’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় গণমাধ্যমকে এমন ভাবে কলুষিত করেছেন।

কোথাও কোথাও বিএনপি’র মাথায় কাঁঠাল ভেঙে পরিকল্পিতভাবে দখল বেদখল, মামলাবাজি, চাঁদাবাজিতে জড়িত হয়েছেন কথিত জামায়াত এনসিপি সমর্থিত সাংবাদিকরা।

আর বিএনপি’র সংশ্লিষ্ট জেলা বা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিংবা প্রভাবশালী নেতারা এইসব ‘অঘটন ঘটন পটিয়সী’দের বিশ্বস্ত ভেবে নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো একই ভুল করছেন ! ………..

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্ত লেখাটির পর —

 সাংবাদিক ইউনিয়ন বা প্রেসক্লাব গুলোর যেই নেতা কিংবা যেই সাংবাদিকরা দীর্ঘদিন চরম ঝুঁকি সত্ত্বেও দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চেষ্টা করেছেন, তাঁরাই আজ আছেন চরম গ্লানিতে! চরম নিরাপত্তাহীনতায়। তাঁদের (গণমাধ্যম কর্মীদের) দ্বিতীয় আবাস প্রেসক্লাব – সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয় তো দখল করা হয়েছেই, তার উপর নিজের ঘরেও শান্তিতে থাকবার জো নেই ! এই পরিস্থিতির কথা কি জাতীয় নির্বাচনমুখো রাজনীতিবিদ কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীলগণ কিংবা প্রশাসনের কর্মকর্তারা  জানেন না ?! নিশ্চয়ই জানেন।

অথচ, যেই গণমাধ্যম নির্বাচনের তথ্যচিত্র তুলে ধরবে সেই গণমাধ্যমের এমন দশা নিয়ে তাঁদের কোন হুঁশ নেই! মন্দ লোকেরা{!} অবশ্য বলেন, গণমাধ্যমের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া এই বর্বরতার জন্য আমাদের রাজনৈতিক দল, নেতৃবৃন্দ, সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ কমবেশি অনেকেই দায়ী। তাই তাঁরা সৃষ্ট নজিরবিহীন এই গণমাধ্যম সংকট গেল ১৭ মাসেও উত্তরণ না করেই  একটি ‘চ্যালেঞ্জিং ‘জাতীয় নির্বাচনের পথে হাঁটছেন। নির্বাচনের প্রার্থীরা অবশ্য মানুষের মুক্তমত প্রকাশের কথা বলে উচ্চকন্ঠ হচ্ছেন ঠিকই !

গণমাধ্যমের পরিস্থিতি এখন এমনই, মামলার দৌরাত্ম রাজধানী ঢাকার কেন্দ্র কিংবা বিভাগীয় শহর ছাড়িয়ে উপজেলার তৃনমূলের ইউনিট পর্যায়েও রয়েছে। এক শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং দলকানা কিছু সাংবাদিকই পেশাদার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এইসব মামলা দিয়েছেন। বেশিরভাগই দেওয়া হয়েছে হত্যা কিংবা হত্যা চেষ্টা মামলা !

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছিলেন, মিথ্যা মামলা থেকে সাংবাদিকদের রেহাই দেওয়া হবে। কিন্তু ১৭ মাসেও যে লাউ সেই কধু!

ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়গুলো ২৪ পরবর্তী সময়ে যেভাবে দখল করা হয়েছে, পরিস্থিতি তা থেকে উত্তরণ সম্ভব হয়নি. গণতন্ত্র কেবল মুখের কথায় রয়েছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের চাকরি খেয়ে ভুয়া টাউটদের দিয়ে গণমাধ্যম দখলের প্রতিযোগিতাই যেন চলছে! গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান মালিকদের চাপে রেখে প্রতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ  করা হয়েছে। বাধ্য করা হয়েছে চাকরিচ্যুতি বা স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী কয়েকটি শিল্প গ্রুপকে নিয়ন্ত্রণ ও চাপে রাখার জন্য মব অ্যাটাক করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রেও কোটা প্রথা এবং বৈষম্যের  বিরুদ্ধে কথা বলা ২৪ এর নায়ক দাবিদাররা কোটা ভাগ করেছেন! 

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্তটির পর —

সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর সংবাদ, টকশো কিংবা অনুষ্ঠানমালার সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ মহলবিশেষের হাতে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জাতীয় এবং আঞ্চলিক শাখা গুলো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা। সাধারণ মানুষ কি গণমাধ্যমের এমন লুটেরা তাণ্ডবের কথা জানেন? জানতে পেরেছেন? জানার কোন পরিবেশ কি আর থাকতে পারে?!

লুট-খুনের আসামী যেখানে জামিন পেয়ে যাচ্ছেন , সেখানে দীর্ঘকাল ধরে গণমানুষের প্রতিনিধির মতই সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে দায়িত্ব পালন করা পরীক্ষিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা ; জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ৭১ টেলিভিশনের সিইও  মোজাম্মেল বাবু, নন্দিত সাংবাদিক শাকিল আহমেদ, ফারজানা রুপা, আনিস আলমগীর সাংবাদিক ও মানবাধিকার সংগঠক শাহরিয়ার কবির সহ সাংবাদিক-সংগঠকরা কোন্ কোন্ ভয়াবহ অপকর্মে (!) অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হলেন এবং জামিন বঞ্চিত হচ্ছেন, তা সারা দেশের গণমাধ্যম বান্ধব মানুষ জানতে চান। দীর্ঘদিন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়ার  উপদেষ্টা হিসেবে থাকা জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বিএফইউজে অপর অংশের নেতা শওকত মাহমুদও সম্প্রতি গ্রেপ্তার হন।

 জীবনেও কোনো ফৌজদারি অপরাধের আসামি না হয়েও ২৪ পরবর্তী সময়ে অকস্মাৎ রাজনৈতিক টার্গেটে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ সহ্য করেছেন ঢাকার সাংবাদিক সহযোদ্ধা শেখ জামাল ও মঞ্জুরুল আলম পান্না, বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত নির্বাহী সদস্য চট্টগ্রামের প্রণব বড়ুয়া অর্ণব, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী, সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী মিঠু, পটিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবেদুজ্জামান আমিরী সহ অনেকেই। সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে পর্যন্ত গড়ে অন্তত তিনটি করে মামলার আসামি হয়ে মাঠের সাংবাদিক সহকর্মীরা আজ অসহায়।

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্ত লেখাটির পর —

যে দেশের গণমাধ্যম মুক্ত নয়, সে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্ন অযৌক্তিক। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ইসলামী, এলডিপি সহ প্রধানতম দলগুলো  গণমাধ্যম কর্মীদের বর্তমান এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবেছেন? …………………

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে বিশেষ বিশেষ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় নেতাদের আস্থাভাজন হয়ে ‘অতি আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠা ‘গুপ্ত’ বা বর্ণচোরারা এখন ‘অতি বিএনপি’ কিংবা ‘অতি জামায়াত’ বা ‘অতি এনসিপি’ হওয়ার প্রতিযোগিতায় গণমাধ্যমকে এমন ভাবে কলুষিত করেছেন। কোথাও কোথাও বিএনপি’র মাথায় কাঁঠাল ভেঙে পরিকল্পিতভাবে দখল, বেদখল, মামলাবাজি, চাঁদাবাজিতে জড়িত হয়েছেন জামায়াত এনসিপি সমর্থিত কথিত সাংবাদিকরা। আর বিএনপি’র সংশ্লিষ্ট জেলার বা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিংবা প্রভাবশালী নেতারা এইসব ‘অঘটন ঘটন পটিয়সী’দের বিশ্বস্ত ভেবে নিয়ে আওয়ামী লীগের মতো একই ভুল করছেন ! যদি ঠিক মত জাতীয় নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয় তবে ১২ ফেব্রুয়ারি এবং তার অব্যবহিত পরেই বিএনপি হাই কমান্ড এসব গুপ্ত কিংবা বর্ণচরাদের কুফল বুঝতে পারবেন – দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল থেকে কাজ করে উঠে আসা একজন সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের কর্মী বা সাংগঠনিক হিসেবে আমার পর্যবেক্ষণ থেকেই এ আমার অভিব্যক্তি ।

১৭ মাসের নবমাত্রায় ঘটে চলা নিপীড়ন নির্যাতন দমন পীড়নের ভয়াবহতায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের অবস্থা এখন এমনই যে, ঠিকমতো সত্য উপস্থাপন দূরে থাক পরিবার সন্তান বা স্বজন প্রতিবেশীদের নিয়ে সম্মানের সাথে স্বাচ্ছন্দে বেঁচে থাকবার ন্যূনতম নিরাপদ পরিস্থিতিটুকু আজ তাঁদের নেই।

শুধু গণমাধ্যম পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা করলেও জাতির এমন লজ্জাজনক অবস্থান স্বাধীন বাংলাদেশে অতীতে কখনোই হয়নি।

গতকালও আমার এক সহযোদ্ধা ; শফিকুল ইসলামকে ‘মবকারবারিদের ভয়ে’ কর্মস্থলে যেতে মানা করেছেন একটি সংবাদপত্র কর্তৃপক্ষ। অথচ গণতন্ত্র মানলে দেশের গণমাধ্যমের এরকম পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্ত লেখাটির পর —

অথচ আমরা খুব আশাবাদী হয়েছিলাম ২৪ এর ৫ আগস্ট অস্থির অনিরাপদ উৎকণ্ঠাময় একটি সময়ে বাংলাদেশের ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের স্মারক প্রতিষ্ঠান, প্রিয় সেনাবাহিনীর প্রধান গণমাধ্যমের বদৌলতে জাতিকে আশ্বস্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আপনাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিলাম ‘।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গণমাধ্যমের ভিন্ন ভিন্ন রূপ থাকতেই পারে। নানা আঙ্গিক থেকে গণমাধ্যম গণমানুষের কথাগুলো তুলে ধরবে। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক মত-ভিন্নমত আসবেই। যারা ‘২৪ এর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে মুক্তমত প্রকাশ কিংবা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ধুঁয়ো তুলে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত কিংবা বিভ্রান্ত করেছিলেন, আজ গণমাধ্যমকে যখন গলা টিপে ধরা হয়েছে, তখন সেই সব বুদ্ধিজীবী থেকে তাত্ত্বিক রাজনৈতিক কর্মীরা নিরব! গণমাধ্যম কিংবা এর সাথে জড়িত পেশাজীবী মানুষগুলোর স্বার্থে তাদের মুখে কোন ‘রা’ নেই।

সারাদেশে আজ আমার প্রকৃত গণমাধ্যম বন্দি। যেই গণমাধ্যম কর্মীরা বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে নির্মোহভাবে সাহসের সাথে কথা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িক মানবিক অনুভূতি, শিক্ষা, ইতিহাস, ঐতিহ্যের পক্ষে যারা কথা বলেন, মূলত তাঁরাই এখন একপ্রকার বন্দি। কেউ জেলখানায় আছেন, কেউ বাইরে থেকেও যেন অসহায় বন্দি জীবন যাপন করছেন।  অনেক ক্ষেত্রে এই বন্দিদশা দৃশ্যত নয় বা অনেকের চোখে পড়ছে না ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন হাঁসফাঁস করছেন। তাদের পরিবারের বোবা কান্না শুনবার মত হৃদয় এখন যেন কোন পক্ষেরই নেই ! এক পক্ষ পলাতক এবং তাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকার গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি নিজেদের রাজনৈতিক সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার কথাও যেন ভুলে বসে আছেন ! আর অপরপক্ষ, ক্ষমতার মসনদে যাওয়ার জন্য গভীর স্বপ্নে বিভোর ! যদিও সেই পক্ষেও  ‘জুলাই চেতনার শক্তি’ আজ  দ্বিধা বিভক্ত!

তথাকথিত এক গণমাধ্যম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রাজধানীতে। সেখানে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা শুনলাম। কিন্তু ঢাকার বাইরের বা তৃণমূলের চাকরি হারা নিরাপত্তাহীন সাধারণ সাংবাদিক সহযোদ্ধাদের অবর্ণনীয় পরিস্থিতি বা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আত্মগোপনে থাকা, পালিয়ে থাকা, নির্যাতিত বঞ্চিত সাংবাদিকদের পরিবারের নজিরবিহীন কষ্টের কথা উপস্থাপনের জন্য সাংবাদিক ইউনিয়নের আঙ্গিক থেকে কারো কথা শোনা গেল না ! 

 গণমাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সৃষ্ট এমন নজিরবিহীন অমানবিক লজ্জাজনক এবং নপুংসকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কুপমন্ডুক পরিস্থিতির আঙ্গিকেই স্পষ্ট বলা চলে যে, দেশের একশ্রেণীর মানুষের কথিত ‘নতুন বাংলাদেশ’ ক্রমশ পরিণত হচ্ছে মৃত্যু খোঁয়াড়ে।

যে দেশের গণমাধ্যম মুক্ত নয়, সে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্ন অযৌক্তিক। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ইসলামী, এলডিপি সহ প্রধানতম দলগুলো গণমাধ্যম কর্মীদের বর্তমান এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তাহীনতার কথা ভেবেছেন?

যেখানে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে দেশের সবকিছু স্বাভাবিক থাকবার কথা, সেখানেই যখন গণমাধ্যমের চিত্রপট উলটপালট করে নজিরবিহীন নিরাপত্তাহীন এবং লজ্জাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে নির্বাচনকালীন ‘রেড জোন’ গুলোয় কিংবা সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতায় গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা কে দেবেন? আমি তো আমার সহযোদ্ধাদের এই সময়কালে চরম নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করছি।

প্রশ্ন জেগেছে খুব স্বাভাবিকভাবেই : স্বাধীন বাংলাদেশ নজিরবিহীন ভাবে মব অ্যাটাককারীদের তাণ্ডব, দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা এবং ঐতিহ্যিক ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো ভাঙচুর, মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক সংস্কৃতি কর্মীদের প্রতি লাঞ্ছনা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অপমান করতে গিয়ে ঘটানো তান্ডব, অগুণতি পাঠকের প্রিয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে আগুন সহ দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে গণমাধ্যম কর্মীদের উপর হামলে পড়া, একের পর এক অঘটন আইনশৃংখলায় নিয়োজিত বাহিনীর নাকের ডগায় গত ১৭ মাসে যেভাবে ঘটেছে , তাতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হানাহানিতে সাংবাদিক-পুলিশ-সেনা সদস্য সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনী এবং দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া বিভিন্ন পেশার মানুষের নিরাপত্তা কিভাবে সম্ভব ? তাছাড়া, রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃত গণমাধ্যমকে এমন করে একপক্ষীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জিম্মি রেখে কোন্ ‘গণতন্ত্রে’র স্বার্থে, দেশি কিংবা বিদেশি কোন্ শক্তির স্বার্থে, কোন্ জাতীয় নির্বাচন বা কোন্ গণভোট আয়োজন অনিবার্য হয়ে পড়লো ?!

আমি তাই, দেশের সকল কল্যাণকামী, শান্তি প্রত্যাশী মানুষ ও গণমাধ্যম কর্মীদের  নিরাপত্তার স্বার্থেই দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই, সারা দেশের নির্বাচিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রতীকি প্রতিনিধি হিসেবেই বলতে চাই, আমার সহযোদ্ধাদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকারের প্রশ্নে বর্তমান সামগ্রিক পরিস্থিতিতে অত্যাসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ‘জনবান্ধব’ বা ‘গণতন্ত্রের জন্য উপযোগী’ মনে করছি না।

সংক্ষুব্ধ সংশয়ে ভরা এই মনে বিন্দুমাত্র শান্তি হলেও খুঁজে পেতাম, যদি নির্বাচনী মাঠে হাজার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সক্রিয়, মঞ্চ কাপানো নির্বাচনমুখী আমাদের জাতীয় নেতারা একবার সরকারের কাছে দাবি তুলতেন বা প্রতিশ্রুতি দিতেন, কারাবন্দী সাংবাদিকদের মুক্তি এবং দেশজুড়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে হওয়া হওয়া মামলা গুলো প্রত্যাহারের। বিএনপি চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমান, জামায়াত আমির  ডা. শফিকুর রহমানরা কী ভেবে দেখবেন?

বি: দ্র: আমি জানি, গণমাধ্যম এখন এতটাই পরাধীন যে আমার এই লেখা প্রকাশ করবার মতো সামর্থটুকু সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা রাখেন না। তাই, সামাজিক মাধ্যমেই সকল প্রকার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও জানতে চাই, বন্ধুরা, রাষ্ট্রকে ঘিরে গণমাধ্যমের এমন পরিস্থিতিকে আপনারা কেমন মনে করছেন?

মুক্তমনে, জাতীয় স্বার্থে, গণমানুষের স্বার্থে, গণমাধ্যমের স্বার্থে,  বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও ভবিষ্যতের স্বার্থে  আপনার/আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত চাই।

— রিয়াজ হায়দার চৌধুরী : সভাপতি,চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাধারণ সম্পাদক, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ ও সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য, চট্টগ্রাম মেডিকেল ইউনিভার্সিটি )

rhyderchowdhury0@gmail
মুঠোফোন : 01819330110

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img
Latest News

এনসিপি’র আবদার, মেয়র ইস্যু, জুলাই ঐক্য, বৈষম্য বাস্তবতা

নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রচারণার যে হাওয়া তুলে এনসিপির ভাইয়েরা 'তরুন স্মার্ট মেয়র'শাহাদাতের পদত্যাগ চাইলেন, সেটি যদি অনুসরণ করতে হয়, ...
- Advertisement -spot_img

More Articles Like This

- Advertisement -spot_img