প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন চট্টগ্রাম সিটি মেয়রকে পাশে দাঁড় করিয়ে রেখেই গণমাধ্যমের এতগুলো ক্যামেরার সামনেই আলোচিত এই প্রতিমন্ত্রী অপ্রয়োজনীয় ভাবেই মেয়রকে ধমকের সুরে কথা বললেন !
রাজনৈতিক শিষ্টাচার, শালীনতাবোধ বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ন্যূনতম বিবেচনা বোধ যদি থাকে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর এখন তো উচিত এই ধরনের ঘটনার জন্য প্রতিমন্ত্রীকে তার মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ দেওয়া নতুবা মেয়রের এবং প্রকারান্তরে চট্টগ্রামবাসীর ইজ্জত বাঁচাতে অন্তত সংগঠনিক বা প্রশাসনিক-প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘শো-কজ’ করা জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহনের মধ্য দিয়ে অন্য অনেককেই শিক্ষা দেওয়ার এখনই উচিত সময় বলে নাগরিক হিসেবে মনে করি …..

জল নিয়ে জলঘোলা করছেন অনেকেই ! প্রধানমন্ত্রী যেখানে দুঃখ প্রকাশ করছেন সেখানে প্রতিমন্ত্রী এসে করছেন নসিহত ! গণমাধ্যমকেও এক এক হাত দেখে নিচ্ছেন যে যার মত করে !

চট্টগ্রামমের জলাবদ্ধতা সমস্যা নতুন কিছু নয়। এর সাথে রাজনীতি বা ভোট বাণিজ্যের সংযোগও পুরোনো। সব জেনেশুনেই নিরুপায় চট্টগ্রামবাসী তবুও স্বপ্ন দেখেন জল দুর্ভোগ থেকে মুক্তির।
চট্টগ্রামের বিস্মৃত প্রায় খাল গুলো থেকে ম্যানুয়ালি মাটি কর্তন এবং প্রকল্প পরিকল্পনা করে সূচিবদ্ধ কাজের ইতিহাসও অন্তত ৪০ বছরের। এই খাতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) , চট্টগ্রাম ওয়াসা সহ উন্নয়ন সেবা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন গুলোর সমন্বয়হীনতার অভিযোগও বেশ পুরানো।

রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভে’র দায় খোঁজা অযৌক্তিক নয়, তবে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় স্তম্ভ ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে চতুর্থ এর দিকে আঙ্গুল তোলা আসলেই কি যৌক্তিক ? অবশ্য এক্ষেত্রে এও বুঝতে হবে, সব স্তম্ভের ক্ষেত্রেই সমন্বয়ক কিংবা টেকসই ভিত নিশ্চিতে রাজমিস্ত্রি বা কারিগর কিংবা হেড মিস্ত্রি হিসেবে দায়িত্ব গণপ্রতিনিধি কিংবা রাজনীতিবিদদেরই।
তবে ২৪ এর ‘দিন বদলের’ স্বপ্ন দেখিয়ে ‘নতুন স্বাধীন দেশে’ তাবৎ সমস্যা সমাধানের গল্প যারা শুনিয়েছেন, তাদের জোট সঙ্গীদের ২০ মাসের পালাক্রম এর শাসনকালে গল্পগুলো এত সহজেই ব্যর্থ অনুগল্পে পরিণত হবে তা মানতে পারছেন না রাজনীতি সচেতন এবং অসচেতন উভয় পক্ষের মানুষ। তাই সামাজিক মাধ্যমে এত পিট চুলকানি, এত হাহাকার, এত দোষারোপ এবং এত এত ভাবে দায় অস্বীকারের সওগত ।
অল্প কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে জলবন্দি দশায় নাভিশ্বাস চরমে ওঠা নগরবাসীর দুর্ভোগের ভিডিও চিত্র নিয়ে আমার মুঠো ফোনে একটি মাত্র পাঁচ মিনিটের অনুপ্রমান্য তুলে ধরেছিলাম আমার ফেসবুক আইডিতে। এটা ভাইরাল হলেও রাজনৈতিক চেতনা আশ্রিত এক একজন এক এক ভাষায় পাল্টাপাল্টির যেন বান তুলেছেন। এসব সমালোচনার বন্যা দেখবো, নাকি জলবন্দি দশার ভবিষ্যৎ শংকায় নগরবাসীর দুশ্চিন্তা নিয়ে ইতিবাচক কিছু লিখবো, এই নিয়ে ভাবনা না কাটতেই চট্টগ্রাম শহরকে দুবাই শহর মনে করা কেন্দ্রের প্রতিনিধি, সদাশয় সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে এবং আচরণ দেখে নাগরিক হিসেবে অন্য অনেকের মত আমিও বড্ড আশাহত !
আমার ফেসবুক ওয়ালে ভিডিও অনুপ্রমান্যটির মন্তব্য অধ্যায়ে লিখছেন অনেকেই। বট আইডির তাপালিং তো আছেই। আছে বিএনপি বিরোধীতাও। বিদায়ী আওয়ামীলীগ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ গুলোর প্রশংসা কিংবা ব্যর্থতার অভিযোগতো আছেই। আমার অনুপ্রামান্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত সাবেক ছাত্রনেতা ও তরুণ ব্যবসায়ী একরামুল হক জলাবদ্ধতা নিয়ে বেশ কিছু আশাপ্রদ তথ্য দিলেও গণমাধ্যমকে দুষেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে জলাবদ্ধতা প্রকল্প চসিক থেকে নখদন্তহীন চউকের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের নীরবতা নিয়েও।
রাষ্ট্রের ‘চতুর্থ স্তম্ভে’র দায় খোঁজা অযৌক্তিক নয়, তবে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় স্তম্ভ ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে চতুর্থ এর দিকে আঙ্গুল তোলা আসলেই কি যৌক্তিক ? অবশ্য এক্ষেত্রে এও বুঝতে হবে, সব স্তম্ভের ক্ষেত্রেই সমন্বয়ক কিংবা টেকসই ভিত নিশ্চিতে রাজমিস্ত্রি বা কারিগর কিংবা হেড মিস্ত্রি হিসেবে দায়িত্ব গণপ্রতিনিধি কিংবা রাজনীতিবিদদেরই।
চট্টগ্রাম শহরের নাগরিক সেবা কিংবা শহর উন্নয়ন সেবা সমন্বয়ের ঘাটতি নিয়ে আমি আগেও লিখেছি, এখনও লিখছি, ভবিষ্যতেও লিখে যাবো। প্রিয় রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক বন্ধুরা, এটা নিশ্চিত থাকতে পারেন।

আমার লেখায় কিংবা সামাজিক মাধ্যমের আইডিতে অতীত মেয়র বা সরকার, মানে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে যারা আঙ্গুল তুলেছেন, তা নাগরিক হিসেবে বা দলীয় অবস্থান থেকে অবশ্যই তুলতে পারেন, সেটাই হওয়া উচিত । কিন্তু আমি বা আমরা গণমাধ্যমের যারা সংশ্লিষ্ট, আমরা দলীয় বৃত্তের বাইরে থেকেও নির্মোহভাবে চেষ্টা করেছি, নগরবাসীর সেবার ক্ষেত্রে যাতে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা অনিয়ম না থাকে। গুপ্তদের কথা অবশ্য ভিন্ন। সেই দলে আমরা নেই।
তবে এখনকার জলবন্দি দশার বিষয়ে সংযুক্ত ভিডিও অনুপ্রামাণ্যটিতে কোনভাবেই বর্তমান মেয়রের বিরুদ্ধে কিছু নেই। তবুও ‘ধান ভানতে শীতের গীতে’র মত কেন মেয়রের নামটি বা পদবীটি আপনারা আলোচনায় প্রাসঙ্গিক করে তুলছেন, তা বুঝতে পারছি না !
নাগরিক হিসেবে এই কথা আমিও বুঝি যে, এখনকার জলবন্দি দশার জন্য অস্থির উত্তাল রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আমাদের এখনো অনেকটা নতুন সিটি মেয়রের কেমন উল্লেখযোগ্য কোন ব্যর্থতা নেই । এটুকু যারা বুঝবেন না, তারা সুনাগরিকও নন। তাদের মধ্যে রাজনীতি সচেতনতাও নেই।







আবার মেয়রের সমর্থক যারা, তাদের উদ্দেশ্যে বলি, জলাবদ্ধতা ইস্যুতে মেয়রের সমালোচনাকারীদের ঢালাওভাবে সমালোচনা না করে ববং অনুধাবনের চেষ্টা করুন মেয়র ডা. শাহাদাতের বিরুদ্ধে দলীয় অভ্যন্তর থেকে মেয়র প্রার্থী হবার প্রতিদ্বন্দ্বিতার মনোভাব হেতু সংশ্লিষ্টদের সমর্থকরা কি পরিমাণ আজাইরা সমালোচক এবং কি পরিমান গুপ্ত সমালোচকদের তৎপরতা রয়েছে, তা। হুদাই আগামী বিরোধিতা কিংবা গণমাধ্যম বিরোধিতা বা গণমাধ্যমের আওয়ামী সম্পৃক্ততা/ সমর্থন খোঁজা এখানে অবান্তর।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং সিটি মেয়র চট্টগ্রামবাসীর জলবন্দি দশায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটিও অবশ্যই ইতিবাচকভাবেই নেওয়া উচিত। এটি একজন রাজনীতি সচেতন নাগরিক হিসেবেও আমার স্পষ্ট বক্তব্য। তবে এটাও আমরা দাবি রাখতে পারি যে, অতীত ব্যর্থতার দিকে কেবল আঙ্গুল না তুলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পটি যাতে দ্রুততর কার্যকরী এবং জনবান্ধব হয়, সেই ব্যাপারে সরকারের ত্বরিৎ বিশেষ ভূমিকা প্রয়োজন।



সেনা তত্ত্বাবধানে পরিচালিত সিডিএর প্রকল্পের কোথাও যদি কোন ব্যত্যয় ঘটে, তা কেন ঘটেছে , এক্ষেত্রে সিডিএর দায় কতটুকু এবং সমন্বয়হীনতার দায় কত, সেটিও বিশেষভাবে অনুসন্ধান করে সমাধান বের করে আনা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে অবশ্যই একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। প্রকৌশল বা স্থাপত্য বিশ্লেষক , নগর পরিকল্পনাবিদ থেকে শুরু করে সিভিল সোসাইটির প্রত্যাশার সাথে রাজনীতিবিদ বা জনপ্রতিনিধি এবং বাস্তবায়ন কারী কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার সমন্বয়।
বিগত আওয়ামীলীগ আমলে জলাবদ্ধতা নিরসনে সিভিল সোসাইটির পক্ষে আমি কিংবা আমরা সভা সমাবেশ সেমিনার গোলটেবিল বৈঠক পথসভা বিক্ষোভ সমাবেশ, সংবাদপত্রে-টেলিভিশনে রিপোর্টিং, কলাম, সাক্ষাৎকার, টকশো সহ নানাভাবে সোচ্চার সক্রিয় ছিলাম। নাগরিক সমাজের যেই উচ্চ আওয়াজ তখন দেখেছি, সেই সময়ের বিএনপি নেতৃত্ব মাঠের বিরোধীদল হিসেবে ততটুক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। অবশ্য এরও ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যদিও সে সময় বিএনপি’র নেতৃত্বে থাকাদের অন্যতম প্রাক্তন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি/আহবায়ক, বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আমাকেই এক টিভি টকশোতে বসে সেই সময়ের আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বিএনপি হামলা মামলা নিপীড়নের কারণে মাঠে দাঁড়াতে পারছে না।’ ধরেই নিলাম, সেই কারণে নাগরিক স্বার্থ ইস্যুতে ঠিকমতো ভূমিকা রাখতে পারেনি দলটি। কিন্তু এখন বিএনপি ক্ষমতায়, মেয়র পদেও রয়েছেন বিএনপিরই নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন। তাই বিএনপি এবং তার প্রতিনিধির কাছেই জনপ্রত্যাশা বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। সঙ্গত কারণেই আমরা সেই আশাতেই আছি যে, বিএনপি এবার জলাবদ্ধতা দূরীকরণে কার্যকর সফল ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৪০ বছরের জঞ্জাল বিএনপির নতুন ক্ষমতাকালের দুই মাসের মধ্যেই উপড়ে ফেলে সমাধান আসবে, এমন আশা করি না। এরকম আশা করাটাও বোকামি। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অতীতের যে কোন ধীরতার অবসান আশা করি।
চট্টগ্রামে পরিদর্শনে এসে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্পে সৃষ্ট বাধ বা প্রতিরোধক দেয়াল অপসারণে আরও পাঁচ দিন সময় লাগবে।
কেন রে ভাই, এত সময় কেন প্রয়োজন!? চট্টগ্রামবাসীকে কি আপনারা মূর্খ বা বোকা মনে করেন ? প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী খাল খনন প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট বাঁধই যদি এই জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী হয়ে থাকে, তবে
আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে বুঝে কেন সেই রিটেইর্নিং ওয়াল বা বাঁধ সরানোর তড়িৎ সিদ্ধান্ত হলো না ? কেনই বা প্রতিমন্ত্রীকে চট্টগ্রাম এসেই ২০ ঘন্টা পর সেই ঘোষণা দিতে হবে ?
এবার চট্টগ্রামে আগত ওই প্রতিমন্ত্রীর বিষয়ে বিএনপি’র নীতি নির্ধারকদের উদ্দেশ্যে এখানে একটা তিক্ত সত্যে আমার নাগরিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা যাক।
প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাসম্পন্ন চট্টগ্রাম সিটি মেয়রকে পাশে দাঁড় করিয়ে রেখেই গণমাধ্যমের এতগুলো ক্যামেরার সামনেই আলোচিত এই প্রতিমন্ত্রী অপ্রয়োজনীয় ভাবেই মেয়রকে ধমকের সুরে কথা বললেন !…
রাজনৈতিক শিষ্টাচার, শালীনতাবোধ বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ন্যূনতম বিবেচনা বোধ যদি আপনাদের থাকে, তবে আপনারা এই দৃশ্যমান অসৌজন্যতার বিরুদ্ধে কথা বলুন।…….
মেয়রের এবং প্রকারান্তরে চট্টগ্রামবাসীর ইজ্জত বাঁচাতে অন্তত সংগঠনিক বা প্রশাসনিক-প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘শো-কজ’ করা জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহনের মধ্য দিয়ে অন্য অনেককেই শিক্ষা দেওয়ার এখনই উচিত সময় বলে নাগরিক হিসেবে মনে করি……

রাজনৈতিক শিষ্টাচার, শালীনতাবোধ বা সাংগঠনিক শৃঙ্খলার ন্যূনতম বিবেচনা বোধ যদি আপনাদের থাকে, তবে আপনারা এই দৃশ্যমান অসৌজন্যতার বিরুদ্ধে কথা বলুন।
প্রতিমন্ত্রী যে বলে গেলেন, ‘কোথাও জল নেই (!) , সব ফকফকা’, সেই ব্যাপারেও সরকার এবং বিএনপি’ ভাই বোনেরা কিছু বলবেন আশা করি । সংসদের বিরোধী দলীয় জোট জামায়াত- এনসিপির এই জন গুরুত্ব সম্পন্ন ইস্যুতে অবস্থান এখনো জনমনে স্পষ্ট নয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর এখন তো উচিত এই ধরনের ঘটনার জন্য প্রতিমন্ত্রীকে তার মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ দেওয়া নতুবা মেয়রের এবং প্রকারান্তরে চট্টগ্রামবাসীর ইজ্জত বাঁচাতে অন্তত সংগঠনিক বা প্রশাসনিক-প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ‘শো-কজ’ করা জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহনের মধ্য দিয়ে অন্য অনেককেই শিক্ষা দেওয়ার এখনই উচিত সময় বলে নাগরিক হিসেবে মনে করি।
তবে ‘গুপ্ত’দের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সমালোচনা বিষয়ে বিএনপি যদি আরো বেশি ঝেড়ে কাশে তাহলে অনেকের ভেতরের বাইরের রূপ চিনতে জাতির জন্য সহজ হবে।
গুপ্তদের বিষয়ে তাই বিএনপি এবং তার প্রতিনিধি মেয়র সহ তাদের ভক্তকুলের স্পষ্ট অবস্থান জানা জনস্বার্থে জরুরী।
সবথেকে বেশি যা জরুরী তা হল, এই জলাবদ্ধতার সংকট সমাধানে প্রথমেই এর কারণ গুলো চিহ্নিত করা এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী টেকসই সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। চট্টগ্রাম যেহেতু পাহাড় সমুদ্র নদী খাল বেষ্টিত শহর, এবং এতে অর্থনৈতিক ও বাস্তবিক কারণে বসবাসের স্থায়ী এবং অস্থায়ী জনসংখ্যা যেহেতু ক্রমে প্রসারমান , তাই জনজট এবং এর প্রাত্যহিক পয়ঃনিষ্কাশন বা উচ্ছিষ্ট ত্যাগের ভবিষ্যতে চাপ বিবেচনা করেই সমন্বয়ের ভিত্তিতেই পরিকল্পিত সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
( রিয়াজ হায়দার চৌধুরী : সভাপতি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন ও আহবায়ক, চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগ, মুঠোফোন : 01819330110 ইমেইল rhyderchowdhury0@gmail.com )


