এনসিপি’র আবদার, মেয়র ইস্যু, জুলাই ঐক্য, বৈষম্য বাস্তবতা

Must Read

নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রচারণার যে হাওয়া তুলে এনসিপির ভাইয়েরা ‘তরুন স্মার্ট মেয়র’শাহাদাতের পদত্যাগ চাইলেন, সেটি যদি অনুসরণ করতে হয়,  তাহলে তো প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনুসকেও পদত্যাগ করতে হবে। কেননা, সরকারের শীর্ষ দায়িত্বশীল এবং লাভজনক পদে থেকে তিনিও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর  পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এভাবে দেশের অন্য উপদেষ্টা,  সচিব সহ প্রশাসনের সব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল  কর্মকর্তারা যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে  প্রচারণা( হয়তো অনেকটা বাধ্য হয়েই)  চালাচ্ছেন, তাদের সবাইকে পদত্যাগের দাবি কি করবেন এনসিপি’র ভাই-বন্ধুরা ? নতুবা চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রামের মেয়রের প্রতি কি ‘বৈষম্য’ হবে না?……

ফিরে দেখা চট্টগ্রাম বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, ১৪ বছর আগের ছবিতে-নিউজ ব্যাংক বাংলা

একটি প্রশ্ন খুব জানতে ইচ্ছে করে।  এভাবে নির্বাচনী স্বার্থটাই যদি সর্বক্ষেত্রে মুখ্য হয়ে ওঠে, তবে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের দুয়ারে দাঁড়িয়ে দফায় দফায় দেওয়া প্রত্যয় বা অঙ্গীকারের ‘জুলাই চেতনার ঐক্য’টা তবে কি?

অন্তত সাড়ে তিন দশক চট্টগ্রামের রাজনীতিকে পর্যবেক্ষণ এবং সংবাদপত্রে লিখেছেন, অসংখ্য টক শো করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সাংবাদিক, কলামিস্ট রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি তিনি। কাজ করেছেন দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমে।
চট্টগ্রামের উন্নয়ন আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রীয় পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক তিনি। সক্রিয় সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনে। ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যও। চসিক মেয়রের পদত্যাগ নিয়ে এনসিপি’র আবদার এবং পুলিশ কমিশনারের গণ বিজ্ঞপ্তি, ‘বৈষম্য বিরোধিতা ও জুলাই ঐক্য’ বিষয়ে লিখেছেন খোলামেলা…

নগরের সবুজ খেকো রাক্ষসদের ‘পেটে যাওয়া’ সবুজহীন ‘বিপ্লব উদ্যানে’ বসে আমার তরুণ বন্ধুরা দাবি তুললেন ‘তরুন স্মার্ট মেয়র’কে সরে যাওয়ার ! দাবিটি নিছক রাজনৈতিক না হলে কিছুই লেখা হতো না আমার। কেননা, ২৪ পরবর্তী অসহিষ্ণু সময়ে মুক্তমত প্রকাশের আশাবাদ দেশের একাংশের মধ্যে থাকলেও ঘটেছে ঠিক বিপরীত ।

 পেশাদারিত্ব আর মর্যাদায় আঘাত করে শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতেই  গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান-সংগঠন দখল হয়েছে একের পর এক। যারা খোদ ২৪ পরবর্তী  মুক্তমত পাবার আশায়  সোচ্চার ছিলেন, তারা’ই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দখলবাজি করেছেন গণমাধ্যমে। রাজনৈতিক প্রবাহে ভেসে গিয়ে যারা খুব আশাবাদী ছিলেন, তারাও অন্ধ কূপমন্ডুক হয়েছেন! বোবা  কালা হয়েছেন ! দখলদার মানসিকতার এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের চিত্র মেনে নিয়েছেন ! নতুবা শুনেও শুনেননি, দেখেও দেখেননি !

কিন্তুু, আমি কি নীরব থাকতে পারি!?

গণমাধ্যমে আমার শহরের গত প্রায় সাড়ে তিন দশকের নিরবচ্ছিন্ন নিমগ্ন কর্মী হিসেবে আমার নগর জীবনে যখন নানা মাত্রিক আগ্রাসন আসে, অধিকার ও মর্যাদার ভিতে যখন আঘাত আসে, তখনই আমি কথা বলেছি, কথা বলি।

অতীতে নন্দিত জননেতা চট্টগ্রাম সিটির ‘হ্যাটট্রিক  মেয়র’ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সাথে বিলবোর্ড ব্যবসায়ী যুবলীগের নেতা  মহিউদ্দিন বাচ্চু (পরবর্তীতে এমপি) গং এর সাথে এক রহস্যবৃত চুক্তির ‘গোমর ফাঁস’ করে একটি লেখা লিখে আমি সে মেযর সহ তাঁর গোত্রীয় অনেকের চক্ষুশূল হয়েছিলাম। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের প্রার্থী নিরুপণে ‘ভোটের  ব্যালেট বাক্স চুরি’ কিংবা বিগত সময়ে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের মহানগর কমিটি গঠন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪০ বছরের স্থবিরতার ‘নেপথ্যের কারণ’ অনুসন্ধান করে লিখতে গিয়ে প্রায় ১৭ বছর আগেই সেসময়ের মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কর্তৃক দায়ের করা ১০ কোটি  টাকার মানহানি মামলার আসামিও হয়েছি।  আরেকটি লেখার কারণেতো বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের জাতীয় সংসদের হুইপের ৫০০ কোটি টাকার মানহানি মামলার এখনো আসামী। অবশ্য, লেখালেখি আর ঈর্ষাকাতুরদের সাংগঠনিক টার্গেটে বিগত আওয়ামীলীগ আমলেই আমি দফায় দফায় হামলারও শিকার হই। প্রসঙ্গত বলতেই হয়, যেই জননেতা আমার বিরুদ্ধে জীবনের প্রথম পেশাগত মামলাটি টুকিয়েছিলেন, তিনি আমার শহরের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং কোটি মানুষের নন্দিত নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, এটি এক ধরনের গর্বেরও বিষয়। যদিও পরবর্তীতে তিনি আমার লেখার সত্যাসত্য জেনে আমাকে কাছেই টেনে নিয়েছিলেন।

আজ যখন আমার শহরের আরেক মেয়র রাজনৈতিক টার্গেট হতে চলেছেন, তাই  নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমি আর নীরব থাকতে পারিনা।

এনসিপি’র দাবির বিপরীতে সিটি কর্পোরেশনে মেয়রের মেয়াদকাল সংক্রান্ত সরকারি গেজেটের সিদ্ধান্ত

চট্টগ্রামে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র তরুণ ভাই ব্রাদারদের পথভ্রষ্টতা দেখে আমাকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন -চসিক মেয়র ইস্যুতে ফের লিখতেই হচ্ছে।

এনসিপি’র কার্যক্রমকে তাদের সেই জন্মলগ্ন থেকেই পর্যবেক্ষণ করছি।

‘ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের পদে থেকেও অংশ নিচ্ছেন’ , এমন  অভিযোগ এনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্ত লেখাটির পর —

বাকি অংশ পড়ুন —

যেখানে জনপ্রতিনিধিহীন রাষ্ট্র চলছে,  মানুষ তার দুঃখের অভিযোগ বা কথা শোনানোর জন্য এলাকা পর্যায়েও কোন প্রতিনিধি পাচ্ছেন না,  বিচার চেয়ে কারো দুয়ারে যেতে পারছেন না,  সেখানে এনসিপি চট্টগ্রামের মেয়রের দলীয় সক্রিয়তায় উদ্বিগ্ন না হয়ে বরং সেই বৈষম্যের নিয়মটার বিরুদ্ধেই কি জোর আওয়াজ তোলা উচিত নয়, যে নিয়মের জন্য চট্টগ্রামের মানুষ তার মেয়রকে হারাবে?  …..

বিপ্লব উদ্যানে’র সেই সংবাদ সম্মেলন থেকে লিখিত বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তুলে ধরেছে  কিছু জনআকাঙ্ক্ষা বিরোধী কথা মালাও , যেসবের গভীরতা নেই। বাস্তবতাহীন এবং যা তাদেরই ভাষায় প্রচলিত ‘জুলাই চেতনা’র সাথে সাংঘর্ষিক!

সংবাদ সম্মেলনটিতে লিখিত বক্তব্যে চসিক মেয়র  ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের গণবিজ্ঞপ্তি প্রসঙ্গে সাংগঠনিক মতামত দেয়া হয়। 

এতে বলা হয়, ‘২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি যদি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হয়, তাহলে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এর মেয়াদ শেষ হবে। আর মাত্র সপ্তাহ খানেক আছে। তাই ‘২৭ জানুয়ারির মধ্যে অবশ্যই ডা. শাহাদাত হোসেনকে পদত্যাগ করতে হবে।’

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্তটির পর —

অর্থাৎ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম সিটির আদালত ঘোষিত মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের এই সপ্তাহের মধ্যেই পদত্যাগ দাবি চট্টগ্রাম এনসিপির ভাই ব্রাদারদের ! ‘

লিখিত বক্তব্য দাবি উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মোহাম্মদ এরফানুল হক। উপস্থিত ছিলেন এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন, জুবায়ের হোসেন, নিজাম উদ্দিন ও জসিম উদ্দিন ওপেল, মহানগর সদস্য মোহাম্মদ সোহরাব চৌধুরী, আজগর আলী আশিক, মোহাম্মদ আজাদ, এমদাদুল হক ও মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, যুব শক্তি মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, বায়েজিদ থানার প্রধান সমন্বয়কারী মহিউদ্দিন তাইফুর ও বাকলিয়া থানার সংগঠক সাদমানুর রহমান চৌধুরী।

মেয়রের পদত্যাগ ইস্যুটি সবিস্তার লেখার আগে পুলিশ কমিশনারের জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তি বিষয়ে এনসিপির অবস্থান নিয়ে  খানিকটা বলা যাক….

বাকি অংশ দেখুন নিচে সংযুক্ত লেখাটির পর…

বাকি অংশ পড়ুন —

মেয়রের পদত্যাগ ইস্যুটি সবিস্তার লেখার আগে পুলিশ কমিশনারের জারিকৃত গণবিজ্ঞপ্তি বিষয়ে এনসিপির অবস্থান নিয়ে  খানিকটা বলা যাক।

সিএমপির জারি করা ৩৩০ দুষ্কৃতকারীর বিবৃতি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এনসিপি। সংবাদ সম্মেলন থেকে এভাবে সিএমপি’র গণবিজ্ঞপ্তিকে প্রত্যাহার করার নজিরের জন্য এনসিপি’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ অবশ্য যথার্থ ইতিবাচক মনে হয়নি,  সেসব নিয়ে পরবর্তীতে কখনো লেখার চেষ্টা করবো।  আজ কেবল মেয়র, ‘মহানাগরিক’ কিংবা ‘নগর পিতা’র প্রসঙ্গে লিখি।

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্ত লেখাটির পর —

বাকি অংশ পড়ুন —

সংবাদ সম্মেলনটিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, ‘ডা. শাহাদাত হোসেন ম্যাজিস্ট্রেটের রায়ে মেয়র হয়েছেন।’

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, “এখানে তারেক রহমানের নির্বাচনি সমাবেশ হবে, উনি ( মেয়র) যেভাবে সমাবেশের সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছেন, মেয়র পদে থেকে উনি আবু সুফিয়ানের ( চট্টগ্রাম -৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী) পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাচ্ছেন ; মেয়র পদে থেকে এটা উনি কোনোভাবেই করতে পারেন না। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী উনাকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে। “

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্ত লেখাটির পর —

বাকি অংশ পড়ুন —

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‎’নির্বাচনের নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অনেক আগেই তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকেও পদত্যাগ করতে হবে। ‘

“তিনি( চসিক মেয়র)  আগামী ২৫ তারিখ বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশের সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। একজন সক্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতা হয়ে তিনি মেয়র পদে বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হবে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে” উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, “মেয়র পদটি প্রজাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী পদ। এই পদে অধিষ্ঠিত থেকে তিনি বিএনপির প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি যদি মেয়র পদে বহাল থাকেন, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু থাকে না।

সুতরাং উনি যদি ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পদত্যাগ না করেন, আমরা তীব্র আন্দোলনে যাব, আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে আমরা এটা জানিয়ে রাখলাম।”

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্তটির পর —

বাকি অংশ পড়ুন —

এনসিপি চট্টগ্রামের ভাই ব্রাদারদের সংবাদ সম্মেলন দেখে উদ্বিগ্ন হয়েছি! তবে বিচলিত নই। বরং তাদের  অদুরদর্শিতা এবং এক চক্ষু হরিণের মতো দৃষ্টিভঙ্গি দেখে  দুঃখই থেকে গেল ! এজন্য খানিকটাও আশাহত হয়েছি, তা বলা যাবে না । কেননা শুরু থেকেই তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে তাদের নিয়ে  আমি কোন আশা’ই করিনি।

ছাত্র সমাজের অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে মাত্র দেড় বছরের আগেই পুরোপুরি রাষ্ট্রক্ষমতার স্বপ্ন দেখা নতুন প্রজন্মের এই ভাই ব্রাদাররা,  তাদের নিয়ে শুরু থেকেই যারা খুব আশাবাদী হয়েছিলেন বরং নানা ভাবে তাদের আশাহত’ই করে চলেছেন । তাদের নিয়ে দেশের একটি অংশের মনে নতুন কিছু করে দেখানোর যে আশা জেগে উঠেছিল যাদের মনে, তা যেন পর্বতের মুষিক প্রসবসম কান্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এনসিপির তরুণ ভাইদের রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা এবং দাবির ঠমক দেখে আমি চরমভাবে হতাশ। এই হতাশার কারণ পরবর্তীতে অবশ্যই বিশ্লেষণ করবো। 

তবে আপাতত বলি, প্রথমত যেই অভিযোগে মেয়র শাহাদাতের পদত্যাগ তারা চাইলেন , একই কাজ অতীতের সকল মেয়রই করেছেন। অতীতে যখন মেয়র পদটি রাজনৈতিক মনোনয়নের বিষয় ছিল না, তখনও নির্বাচিত মেয়ররা দলীয় সম্পৃক্ত ছিলেন। দলের পদ পদবীও তাঁদের ছিল। কেউ দল ছেড়ে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেননি।

অতীতে দলের মনোনয়নের বিষয়টি সরাসরি না থাকলেও স্মরণকালেই পরিবর্তিত প্রচলনে এখন তো সরাসরি রাজনৈতিক মনোনয়নের বিষয়’ই হয়েছে এবং এখনো তা অব্যাহত।

অদূরদর্শী এবং  অপরিণামর্শী দাবি তোলা এনসিপির তরুণ রাজনৈতিক বন্ধুদের জ্ঞাতার্থে এখানে উল্লেখ করতেই হয়, বর্তমান মেয়রই একমাত্র মেয়র যার এখন বিএনপিতেও কোন পদ পদবী নেই। মহানগর বিএনপিতে সর্বশেষ তাঁর পদবী ছিল আহ্বায়ক। তাও অনেক আগেই, সেই পদ এখন আর নেই।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের  উপদেষ্টা পদ থেকে দুই ছাত্র নেতার পদত্যাগের বিষয়টি এনসিপির ভাইয়েরা যেভাবে  উল্লেখ করেছেন, বিষয়টি কি আসলে সেরকম?

প্রসঙ্গত উল্লেখ করতে হয় যে, আলোচিত দুই ‘ছাত্র উপদেষ্টা’ নির্বাচন করার ইচ্ছের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েই উপদেষ্টা পদ ত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে এ নিয়ে সক্রিয় হয়েছিলেন। কিন্তু ‘ব্যাটে বলে’ শেষ পর্যন্ত হয়তো তাদের মেলেনি!

এদিকে নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রচারণার যে হাওয়া তুলে এনসিপির ভাইয়েরা মেয়র শাহাদাতের পদত্যাগ চাইলেন, সেটি যদি অনুসরণ করতে হয়,  তাহলে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে আমার নানা (আমাদের নানা সম )  ড. মুহাম্মদ ইউনুসকেও তো পদত্যাগ করতে হবে। কেননা, সরকারের শীর্ষ দায়িত্বশীল এবং লাভজনক পদে থেকে তিনিও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর  পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এভাবে দেশের অন্য উপদেষ্টা,  সচিব সহ প্রশাসনের সব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল  কর্মকর্তারা যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে  প্রচারণা( হয়তো অনেকটা বাধ্য হয়েই)  চালাচ্ছেন, তাদের সবাইকে পদত্যাগের দাবি কি করবেন এনসিপি’র ভাই-বন্ধুরা ? নতুবা চট্টগ্রাম কিংবা চট্টগ্রামের মেয়রের প্রতি কি ‘বৈষম্য’ হবে না? 

ধরেই নিলাম,অন্তর্বর্তী সরকার আপনাদের দাবী অনুযায়ী চসিককে  মেয়রকে সরানোর বা সরিয়ে দিতে বা তাঁকে পদত্যাগে থেকে বাধ্য করার বিষয়ে ভাবছেন! কিন্তু কিভাবে?! 

এই প্রশ্নের জবাব পেতে হলে আগে আরো বিশদ জানুন প্লিজ ! 

এনসিপি’র ভাই ব্রাদাররা তাদের ধারণা অনুযায়ী আগামী ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বর্তমান মেয়রের দায়িত্ব কাল ‘বৈধ’ বলে উপস্থাপন করেছেন। এই সময় কালকে ধরেই তারা মেয়রের পদত্যাগ  চেয়েছেন। কিন্তু এটাও জেনে রাখা ভালো যে, বাংলাদেশ সরকারের গেজেট অনুযায়ী সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন গঠন আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী বলা আছে, “সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ—কর্পোরেশনের মেয়াদ ওহা গঠিত হইবার পর ওহার প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখ হইতে ৫ বৎসর হইবে।

তবে শর্ত থাকে যে সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও উহা পুনর্গঠিত সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করিবে ।’

অর্থাৎ, আইনের কার্যকারিতা যদি বহাল থাকে তাহলে আগামী মেয়র নির্বাচন এর তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেও প্রথম সভা শুরু না হওয়া পর্যন্ত মেয়র পদে বর্তমান মেয়রই বহাল থাকবেন।এটাই হওয়ার কথা।

এদিকে মেয়র পদ নিয়ে বর্তমান মেয়রের আদালতে করা মামলার রায় অনুযায়ী আদালত পূর্ববর্তী মেয়র অর্থাৎ সর্বশেষ নির্বাচনে ‘নির্বাচিত ঘোষিত’ মেয়রকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেই সূত্রে আদালতের আরোপিত মেয়র পদের সত্বা হিসেবে ডা. শাহাদাত তাঁর পূর্ববর্তী সময়কাল অর্থাৎ মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর অতিবাহিত সময়কালও নতুন করে দায়িত্ব পালনের জন্য পেতে পারেন। সেই সূত্রে মেয়র ডা. শাহাদাত টানা ৫ বছরও দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

এখন তাঁর( চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ) বাকি সময়কাল কি চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত হবে, নাকি পূর্ববর্তী ওই সময়কালসহ ( মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর অতিবাহিত কাল) পুরো মেয়াদকালটা হবে, তা বিজ্ঞ আইনজ্ঞদের পরামর্শক্রমে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্দিষ্ট করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন।

অবশ্য এক্ষেত্রে ডা. শাহাদাতের সমর্থকরা অনেকেই চাইছেন নতুন করে নির্বাচন ঘোষিত হয়ে জনগণের ভোট নিয়ে তিনি যাতে মেয়র হন,  সেই প্রক্রিয়াও ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে সম্ভব নয়’ বলে মনে করেন প্রশাসনিক দায়িত্বশীলরা ।

বাকি অংশ নিচে সংযুক্ত প্রতিবেদনের পর। চোখ রাখুন –

 

বাকি অংশ পড়ুন —

যেহেতু জাতীয় নির্বাচনের আগে সব কটি নির্বাচনকে ইতোমধ্যে স্থগিত রাখা হয়েছে, সেহেতু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন প্রক্রিয়াও এর মধ্যে হবে না, এমনকি সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাও নয়,  এটি নিশ্চিত। তবুও এনসিপির ভাই ব্রাদাররা কেন এমন দাবি করলেন, তা প্রশ্নের অবতারণা রাখে।

ধরেই নিলাম,  চট্টগ্রামের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সমগ্র চট্টগ্রাম জুড়েই বিএনপি এবং ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা করছেন।  তাতে কি এমন নীতিগত অন্যায় ঘটছে? যে মানুষটি বছরের পর বছর দলের জন্য ঝুঁকি নিয়েছেন,  কারাজীবন  কাটিয়েছেন,  সেই মানুষটি মেয়র পদে থাকলে কিংবা না থাকলেও  বিএনপি এবং ধানের শীষের হয়েই তো থাকবেন । এটাই তো স্বাভাবিক।

বাকি অংশ পড়ুন নীচে সংযুক্তটির পর —

বাকি অংশ পড়ুন —

যেখানে জনপ্রতিনিধিহীন রাষ্ট্র চলছে,  মানুষ তার দুঃখের অভিযোগ বা কথা শোনানোর জন্য এলাকা পর্যায়েও কোন প্রতিনিধি পাচ্ছেন না,  বিচার চেয়ে কারো দুয়ারে যেতে পারছেন না,  সেখানে এনসিপি চট্টগ্রামের মেয়রের দলীয় সক্রিয়তায় উদ্বিগ্ন না হয়ে বরং সেই বৈষম্যের নিয়মটার বিরুদ্ধেই কি জোর আওয়াজ তোলা উচিত নয়, যে নিয়মের জন্য চট্টগ্রামের মানুষ তার মেয়রকে হারাবে?  

আচ্ছা, একটি প্রশ্ন খুব জানতে ইচ্ছে করে।  এভাবে নির্বাচনী স্বার্থটাই যদি সর্বক্ষেত্রে মুখ্য হয়ে ওঠে, তবে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের দুয়ারে দাঁড়িয়ে দফায় দফায় দেওয়া প্রত্যয় বা অঙ্গীকারের  ‘জুলাই চেতনার ঐক্য’টা তবে কি?

রাজনীতি সচেতন কারো কারো মতে , জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে একটি অপ্রীতিকর অস্বস্তিকর এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচন বাঁধাগ্রস্ত করতে হয়তো নানা দাবি উঠছে। এনসিপির এই দাবিও কি সেরকম কিছু ? -এই প্রশ্ন থাকতেই পারে অনেকের মনে।

( রিয়াজ হায়দার চৌধুরী : সভাপতি, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সাধারণ সম্পাদক, পেশাজীবী সমন্বয়ে পরিষদ এবং আহবায়ক, চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগ )

- Advertisement -spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -spot_img
Latest News

মেয়রের পদত্যাগ চাইল এনসিপি, সিএমপির গণবিজ্ঞপ্তি প্রত্যাখ্যান

নিউজ ব্যাংক বাংলা, চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের পদে থেকেও অংশ নিচ্ছেন, অভিযোগ এনে সিটি মেয়র...
- Advertisement -spot_img

More Articles Like This

- Advertisement -spot_img